সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ৪ পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,২৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

কুরআন তিলাওয়াতের সময় অন্য কাজ নয়

AmaderIslam.COM
ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৭
news-image

আমিন ইকবাল : অনেক মানুষকে দেখা যায়Ñ মোবাইল বা কম্পিউটারে কুরআন তিলাওয়াত চালু করে অন্য কাজ করতে থাকে। তিলাওয়াত একেবারেই শুনছে না বা কাজের কারণে তিলাওয়াতের প্রতি মনোযোগ দিতে পারছে না। অনেকের আবার একটা কিছু শুনতে শুনতে কাজ করার অভ্যাস- তাই তিলাওয়াত ছেড়ে রেখেছে। মূলত কুরআন শোনা উদ্দেশ্য নয়!

এ ধরনের কাজ একমদ ঠিক নয়। কুরআন তিলাওয়াত শোনা একটি স্বতন্ত্র আমল। আল-কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যখন কুরআন তিলাওয়াত হয় তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ কর এবং চুপ থাক। যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়। [সুরা আরাফ : ২০৪] কিন্তু তিলাওয়াত ছেড়ে তা না শোনা এবং অন্য কাজে লিপ্ত থাকা কুরআনের এই হুকুমের খেলাফ।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও অন্যের থেকে তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করতেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, আমাকে তিলাওয়াত করে শোনাও। বললাম, আপনাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাব, কুরআন তো আপনার উপরই নাজিল হয়েছে! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি অন্যের কাছ থেকে তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করি। আমি সুরা নিসা তিলাওয়াত করতে শুরু করলাম। যখন এই আয়াতে পৌঁছলাম- ‘যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে উপস্থিত করব তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে, তখন কী অবস্থা হবে?’ তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, থাম (হে আব্দুল্লাহ!)। আমি নবীজির দিকে তাকিয়ে দেখি তার দুগন্ড বেয়ে অশ্রæ ঝড়ছে। [বুখারি : হাদিস নং ৪৫৮২]

আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত হচ্ছে আর আমি অন্যদিকে মনোযোগ দিব তা হয় না। সুতরাং তিলাওয়াত যখন শুনব তো মনোযোগ দিয়ে তিলাওয়াতই শুনব। আর কাজ করার সময় যদি কিছু শুনতেই হয় তাহলে গুনাহের কিছু না শুনে শরিয়তসম্মত গজল সংগীত শোনা যেতে পারে।