মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১১ আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,৫ মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

বই হোক জীবনের উত্তম সঙ্গী

AmaderIslam.COM
ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৭
news-image

জুবায়ের রশীদ : একটি সুন্দর মনোরম প্রাসাদ। রূপ সৌন্দর্য ও আভিজাত্যের আলো ঠিকরে বের হচ্ছে প্রাসাদের প্রতিটি ইট প্রস্তরখÐ থেকে। প্রাসাদের ভেতরে একজন বালক। তার হঠাৎ আকাশ দেখতে ইচ্ছে জাগল। শরতের স্বচ্ছ রাজহাঁসের সাদা পালকের মতো আকাশ। প্রথমে একটি ছিদ্র দিয়ে আকাশ দেখল সে। আকাশের সামান্য একটুই দেখতে পেল। তারপর দক্ষিণের জানালার কপাট খুলে আকাশের রূপ মুগ্ধতা অবলোকন করল। আগ্রহ আরো বেড়ে গেল। এবার ভেড়ানো দরজা পেরিয়ে সরাসরি ছাদে উঠল। হ্যাঁ, এবার সে প্রত্যক্ষ করল আকাশের আদিগন্ত সৌন্দর্য। হৃদয়ের কানায় কানায় ভরে উঠল তার আকাশ দেখার স্বাধ।

ঠিক তেমনি বই। বই আমাদের জীবনে, বালকের সেই অনন্ত আকাশ দেখার মতোই। একটি ভালো বই পড়ার অর্থ হলো, বিশ্ব নিখিলের সামান্য থেকে সামান্যতম জ্ঞান অর্জন। অতঃপর এভাবে বই আর বই পড়ার মধ্য দিয়ে প্রাসাদের ছাদে দাঁড়িয়ে পুরো অন্তহীন আকাশ দেখার মতো। পৃথিবীর জ্ঞানরাজ্য অবলোকন করা। জ্ঞানের সাগর মন্থন করে কোটি কোটি মণি মুক্তো কুড়িয়ে আনা। ওমর খৈয়াম বড়ো চমৎকার বলেছেন, ‘রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলা হয়ে আসবে, কিন্তু একটি বই অনন্ত যৌবনা।’

মানবসভ্যতার আদি এবং শাশ্বত জ্ঞানের সৃষ্টি হয়েছে ওহীর মাধ্যমে। ওহী থেকে সংস্কৃত ভাষার বহি শব্দের উৎপত্তি। আজকের আধুনিক বাংলা ভাষা এবং গদ্যরীতিতে যা বই নামে সম্যক পরিচিত। জ্ঞানীকুল অবগত। সর্বসভ্যতার শ্রেষ্ঠ পুরুষ হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সমতল ভূমি থেকে উঠিয়ে নির্জন পাহাড়ের অরণ্যগুহায় বলেছেন, ‘পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।’ নিখিলের আদিঅন্তেরর শ্রেষ্ঠ বই পবিত্র কুরআনের সূচনা হয়েছে পড় এই আদেশসূচকের মাধ্যমে। বিশ্লেষণের সর্বোচ্চ মানদÐ ধর্মের আঙিনায়ও বই ফুল হয়ে সুরভিত সৌরব ও প্রস্ফুটিত সুবাস ছড়িয়ে দিচ্ছে মৌ মৌ করে। তাই বই আমাদের চেতনার রক্তে কোষে মিশে আছে অনুকণা হয়ে। এবং থাকবে সভ্যতার সমাপ্তি পর্যন্ত।

বই জ্ঞানের সাগর। লটকানো ঝুলন্ত বিপুল আকাশ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অযুত নিযুত তারা নক্ষত্র। বই এবং জ্ঞান শব্দ দুটোর মিল খুব। পাশাপাশি থেকে শব্দমোহন সৃষ্টি করে। বইয়ের পাতায় পাতায় জেগে থাকে বিগত দুনিয়ার হাসি কান্না, সুখ দুঃখ। জেগে থাকে গোটা ইতিহাস পুরাণ। বই সংস্কৃতির ধারক। একটি জাতির সুন্দর অস্তিত্বের মেরুদÐ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বেঁচে থাকে বই। যুগ থেকে যুগ আলো বিলায়। হয়ে ওঠে অফুরন্ত আলোর গোলক। মাটির অন্তর্ধানে হারিয়ে পড়ে লেখক কিন্তু লেখকের চিন্তা ভাবনা প্রতিটি হাজার হাজার শব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বইয়ের ভেতর। আজ থেকে শত শত বছর আগে ফিরে যাওয়া আদৌ সম্ভব নয়। তবে বইয়ের মাধ্যমে সে বিগত অতীত কাহিনী খুব সহজে জানা যায়। পড়া যায়। এভাবে বললেও অত্যুক্তি হবে না যে, বই পৃথিবীর সমস্ত যুগ-কাল সময়কে বর্তমান করে রাখে। মৃত নয় জিইয়ে রাখে। বই চিন্তার জগতকে প্রসারিত করে। ভাবতে শিখায়। বুদ্ধির জড়তা চিন্তার বৈকল্য এবং স্বপ্নের দারিদ্র্যতা থেকে বেরিয়ে আসতে বইয়ের বিকল্প নেই। সেই সাথে আত্মীক সমুন্নতি, আধ্যাত্মিকতা, সৃষ্টি স্রষ্টার নিগৃঢ় রহস্য জানতে দিনশেষে বইয়ের কাছেই ফিরে যেতে হয়। তাই বই হোক জীবনের উত্তম সঙ্গী। অন্তরঙ্গ আধার। ভালোলাগা ও ভালোবাসার প্রতীক। পড়ার টেবিল থেকে শুরু করে ঘুমের নরোম শিথান পর্যন্ত জায়গা করে নিক বই। জয় হোক বইয়ের। জয় হোক জ্ঞানের।