সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

সাহাবিদের তাকওয়া

AmaderIslam.COM
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৭
news-image

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ : তাকওয়া মোমিন বান্দার অর্জিত বিনয়ী চরিত্রের নাম। ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনের সোপানে তা মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। আল্লাহতায়ালার কাছে গ্রহণীয় উপঢৌকন হিসেবে ‘তাকওয়া’ সমাদৃত। মহান আল্লাহর বাণী, “আল্লাহর কাছে পৌঁছে না (কোরবানির পশুর) গোশত, রক্ত বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” ( সূরা হজ : ৩৭)। আর আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, “দুটি চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করতে পারবে না, একটি চোখ যা আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে, আর অপর চোখ যা আল্লাহর রাস্তায় পাহারারত অবস্থায় রাত যাপন করে।” (তিরমিজি)।
তাকওয়া বা আল্লাহভীতি বান্দাকে জান্নাতের প্রবেশদ্বার অতিক্রমে সহায়তা করে আর জাহান্নামকে বিদায় জানায়। আল্লাহর বাণী, “মুত্তাকিরা থাকবে নিরাপদ স্থানে।” (সূরা দোখান : ৫১)। অপর আয়াতে আল্লাহ বিশদভাবে বলেছেন, “আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং নিজেকে কু-প্রবৃত্তি থেকে ফিরিয়ে রাখে নিশ্চয়ই জান্নাত হবে তার আবাসস্থল।” ( সূরা নাজিয়াত : ৪০-৪১)।
আর মহান আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত যেমন ‘আশারায়ে মুবাশশারা’ অর্থাৎ বেহেশতের আগাম সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিদেরও আল্লাহর ভয়ে নিজেদের সর্বনিম্ন স্তরের প্রাণী হিসেবে মনে করতেন। হযরত আবু বকর (রা.) একদা একটি চড়–ই পাখিকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, কী ভালো হতো যদি তোমার মতো চড়–ই হতাম! আখেরাতে আমার হিসাব-নিকেশ হতো না! আর মাত্রাতিরিক্ত কান্নার কারণে হযরত ওমর (রা.) এর চেহারায় দাগ পড়ে গিয়েছিল। তিনি কোরআনের আয়াত শুনে ভয়ে বেহুশ হতেন। একবার ভ‚মি থেকে তুলে একটি খড় হাতে নিয়ে বলেছিলেন, কতই না ভালো ছিল! যদি আমি পয়দা না হতাম।
হযরত আলী (রা.) আল্লাহভীতি তথা তাকওয়া অবলম্বন করতে গিয়ে মলিন চেহারা ধারণ করেছিলেন যা শাহাদাতের পূর্ব পর্যন্ত বহাল ছিল। এ সময়কালে কেউ তাঁকে হাসতে দেখেননি। ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে আদর্শিক ইস্যু হিসেবে তাকওয়া অবলম্বন করা সবার জন্য অপরিহার্য। তাকওয়ার মাধ্যমে মানবচরিত্র ঠিকই ‘মানবিক’ চরিত্রে পরিশোধিত হয়। ‘মুত্তাকি’তে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে সর্বদা ধর্মীয় ও মানবিক আচার যাতে পালন করতে পারি আল্লাহ যেন আমাদের সে তৌফিক দান করেন। কারণ আল্লাহ নিজেই বলেছেন, “তোমাদের মাঝে সে ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি।” ( সূরা হুজুরাত : ১৩)।