মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১১ আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,৫ মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

ইসলামে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও ভাষা শহীদদের মর্যাদা

AmaderIslam.COM
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৭
news-image

আমিন ইকবাল : আজ (একুশে ফেব্রæয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, প্রাণের ভাষা। মাতৃভাষার প্রতি মানুষের অনুরাগ মজ্জাগত এবং চিরকালীন। তাই মাতৃভাষা শিক্ষা ও চর্চার প্রতি ইসলামের রয়েছে অকুণ্ঠ সমর্থন। ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ সা. ছিলেন আরবিভাষী। তিনি তাঁর মাতৃভাষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, ‘তোমরা আরবিকে ভালবাসো, যেহেতু আমি এ ভাষার নবী।’ তিনি ছিলেন আরবের সবচেয়ে সুন্দর বিশুদ্ধভাষী। ভাষা ও সাহিত্যে সর্বাধিক নৈপুণ্যের অধিকারী। তিনি বলেছেন, ‘আমি আরবদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিশুদ্ধ ভাষার অধিকারী।’
মহানবী সা. এর মুখনি:সৃত কথা ছিল সাহিত্যের মানদÐে অত্যন্ত উঁচু মাপের। তার বক্তৃতা ও বাচনভঙ্গি ছিল অতুলনীয়। তাঁর রেখে যাওয়া হাদিসের ভাÐার এবং ঐশীগ্রন্থ আল কোরআনের ভাষা আরবি সাহিত্যের সর্বোচ্চ স্থান দখল করে আছে। রাসুল সা. শৈশবেই বিশুদ্ধ আরবি ভাষা শিক্ষা করেছিলেন এবং বিশুদ্ধ ও স্পষ্ট উচ্চারণে কথা বলতেন, যা শোনে লোকজন আশ্চর্য হয়ে যেতো। তাই প্রতিটি বাঙালির উচিত বাংলা ভাষার শুদ্ধ লিখন ও বলনে চর্চা পারদর্শী হওয়া। ভাষা চর্চায় মনযোগী হওয়া। মাতৃভাষা চর্চা করা এবং তাতে দক্ষতা অর্জন করা নবীদের সুন্নত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আমি প্রত্যেক রাসুলকে তার স্বজাতির ভাষা দিয়ে প্রেরণ করেছি।’ [সুরা ইবরাহিম : ৪]
বাংলা ভাষা রক্ষায় যারা জীবন দিয়েছেন তারা শহীদ। ইসলামে ভাষা শহীদের অনেক মর্যারা রয়েছে। সালাম, জব্বার, রফিক ও বরকতরা মাতৃভাষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের ধন্য করেছেন। সম্পদের জন্য, স্বাধীনতার জন্য এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ দেশে দেশে লড়াই করে, কিন্তু মাতৃভাষার জন্য লড়াইয়ের ইতিহাস শুধু বাঙালিই তৈরি করেছে। শহীদের মর্যাদা সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে ভিন্ন ভিন্ন আলোচনা এসেছে। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘ঋণ ব্যতীত শহীদের সব গুণাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ কেননা শাহাদাত তথা অন্যান্য নেক আমল দ্বারা কেবল আল্লাহর হক মাফ হয়। কিন্তু ঋণ তথা বান্দার হক আল্লাহ ক্ষমা করবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত হকদার ব্যক্তি ক্ষমা না করেন। জামে তিরমিজি শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ‘শহীদকে মহান আল্লাহ তায়ালা প্রথমেই ক্ষমা করে দেন। এরপর জান্নাতে তার আবাসস্থল দেখানো হয়, কবরের ভয়াবহ আজাব থেকে হেফাজত রাখবেন। কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা থেকে নিরাপদে থাকবেন এবং তার মাথায় বিশেষ মুকুট পরিধান করানো হবে।’
মহান আল্লাহ তায়ালা শহীদদের ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তাদের (শহীদদের) মৃত বলো না। তারা আল্লাহর কাছে জীবিত এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষভাবে রিজিকপ্রাপ্ত হন’।
আজকের দিনে আমাদের সবার উচিতÑ বাঙালির গর্ব, ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মুনাজাত করা।