মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ইং ৯ কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,২ সফর, ১৪৩৯ হিজরী

মুহাম্মদ (সা.) স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতেন

AmaderIslam.COM
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৭
news-image

আমিন ইকবাল : নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতেন। তিনি খুব বেশি কথা বলতেন না আবার একেবারে চুপও থাকতেন না। কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে প্রথমেই সালাম দিতেন। তারপর কথা বলতেন। এ বিষয়ে নবীজির হাদিস হলোÑ হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, ‘আগে সালাম পরে কথা।’ [সুনানে তিরমিজি : ২৮৪২]।
হজরত রাসুলুল্লাহ সা. সর্বদা বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলতেন। তিনি ছিলেন সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও আলংকারিক ভাষার কৃতিত্বধারী। তার শব্দ ও বাক্য, উচ্চারণ ও ভঙ্গিমা সবকিছুই ছিলোÑ বিশুদ্ধতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ; বরং বলা যায় সাহিত্যের উত্তম নিদর্শন। এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে, ‘রাসুল সা. ছিলেন আরবের সবচেয়ে বিশুদ্ধ ভাষী।’ [কানজুল উম্মাল : ৩৫৪৭১]
হজরত রাসুলুল্লাহ সা. কথা বলার সময় যেমন তাড়াহুড়া করতেন না, তেমনি এতো ধীরে বলতেন না যাতে কথার ছন্দপতন হয়। বরং প্রতিটি কথা স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতেন। হজরত আয়েশা রা. বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সা. তোমাদের মতো এক নাগারে তাড়াহুড়া করে কথা বলতেন না; বরং তিনি প্রতিটি কথা পৃথক পৃথক স্পষ্ট ভাষায় বলতেন। যাতে তার পাশে উপবিষ্ট ব্যক্তিরা তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারে।’ [সুনানে তিরমিজি : ৩৬৩৯]
হাসি মুখেও কথা বলতেন নবীজি সা.। অকারণে কখনও মুখ কালো করে থাকতেন না। ব্যক্তিগত জীবনের দুঃখ-ব্যথাগুলো তার কথা ও আচরণে প্রকাশ পেতো না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে হারেস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সা. অপেক্ষা অধিক মুচকি হাসতে আর কাউকে দেখিনি।’ [মুসনাদে আহমদ : ১৭৭৪০]
তিনি কথা বলতেন কম; যতটুকু বলতেন বিন্যাস করে করে বলতেন। হজরত ইবন আব্বাস রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অল্প কথা বলতেন, তার কথা এত বিন্যাসের সাথে হত, যেমন মুক্তার মালা। [হাকেম]
রাসুলুল্লাহ সা. বেশির ভাগ সময় চুপ থাকতেন, প্রয়োজন ছাড়া আদৌ কথা বলতেন না। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত, হুজুর সা. অশ্লীল কথা বলতেন না। ক্রোধ ও আবেগ সর্বদাই সত্য কথা বলতেন। [আবু দাউদ]
হজরত রাসূলুল্লাহ সা. পারস্পারিক আলোচনার সময় অন্যের কথা মনোযোগসহ শুনতেন। অপরজন চেহারা না ফেরানো পর্যন্ত তিনি তার দিক থেকে চেহারা ফেরাতেন না। আর কেউ তাকে কানে কানে কিছু বলতে চাইলে, তার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি মাথা সড়াতেন না। পারস্পারিক আলাপচারিতার সময় কারো মুখ থেকে কোনো অসঙ্গত কথা বেরিয়ে গেলে তিনি সরাসরি তার নাম উল্লেখ করে লজ্জা দিতেন না; বরং তাকে এভাবে সতর্ক করতেন যে, মানুষের কী হলো যে তারা এমন কথা বলে বা এমন কাজ করে। [আমাদের নবীজীর সা. দৈনন্দিন জীবন : পৃষ্ঠা-৫৯]
হজরত রাসূলে আকরাম সা. কথাবার্তায় কখনও কখনও রসিকতা করতেন। তবে সত্য কৌতুক করতেন। কখনও মিথ্যার আশ্রয় নিতেন না। হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘সাহাবাগণ বললো, হে আল্লাহর রাসুল! নিশ্চয় আপনি আমাদের সঙ্গে হাসি-কৌতুক করেন। তিনি বললেন, নিশ্চয় আমি শুধু সত্যই বলি (কৌতুক করি)।’ [শামায়েলে তিরমিজি : ১৯৪]