সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

`ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে চলছে’

AmaderIslam.COM
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৭
news-image

সকল শ্রেণির আলেমের আমল যেমন এক পাল্লায় মাপা যায় না, তদ্রæপ সব ইসলামী ব্যাংকের শরীয়াহ্ পরিপালন সমান নাও হতে পারে। তবে ইসলামী ব্যাংকগুলো নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে চলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে সমালোচনা থাকতেই পারে। তবে কিছুটা ত্রæটি-বিচ্যুতি হলেই ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা ঠিক নয়। বৃহস্পতিবার দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে একান্ত আলাপকালে এসব কথা বলেন, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড মুরাক্বিব (শরীয়াহ্ অডিট কর্মকর্তা) মুফতী হাফিজুর রহমান।
ইসলামী অর্থনীতির গুরুত্ব বিষয়ে তিনি বলেন, হালাল উপার্জন ছাড়া কোনো ইবাদাত কবুল হয় না। রাসুল সা. ইরশাদ করেছেন, ‘হারাম সম্পদে গঠিত কোনো দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ উক্ত হাদিসটি থেকে আমরা সহজেই অনুমান করতে পারি যে, অর্থনীতিকে ইসলামী শরীয়াহ্র আদলে ঢেলে সাজানো ঠিক কতটা জরুরি। আর ইসলামী ব্যাংকিং ইসলামী অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা এবং ইসলামী অর্থনীতি ইসলামী জীবনব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারণ ইসলামী শরীয়াহ্র প্রধানত দুটি শাখা রয়েছে। ইবাদত ও মুআ‘মালাত (লেনদেন ও আচার-আচরণ)। আর রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে সাধারণত ২ ঘণ্টা সময় আল্লাহ্ তাআলা আনুষ্ঠানিক ইবাদাতের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেনে। বাকী ২২ ঘণ্টা সময় মুআ‘মালাত-এর মধ্য দিয়ে প্রত্যেক মানুষকে অতিবাহিত করতে হয়। আর মুআ‘মালাত-এর বিশাল অংশ জুড়েই রয়েছে ইসলামী অর্থব্যবস্থা। এ অর্থব্যবস্থার প্রধান সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ব্যাংক। সুতরাং ইসলামী ব্যাংকিংকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে ইন্শাআল্লাহ্।
মুফতী হাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো ঠিক কতটা ইসলামী আইন মেনে চলে? অনেকেই বলে থাকেন, ইসলামী ব্যাংক আর কনভেনশনাল ব্যাংকের মাঝে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মোট আটটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক রয়েছে। জাহিলী যুগে সুদী কারবারীরা বলত সুদ ও ব্যবসা একই জিনিস আর বর্তমানে মুসলিম সমাজের এক শ্রেণীর মানুষ ভুল করে কনভেনশনাল ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংককে এক করে ফেলেন। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। একটি কনভেনশনাল ব্যাংকের মাঝে আর ইসলামী ব্যাংকের মাঝে মূল পাথর্ক্য হচ্ছে, কনভেনশনাল ব্যাংক লোন আদান-প্রদান করে আর ইসলামী ব্যাংক পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে লেনদেন করে। এ কারণে কনভেনশনাল ব্যাংক সুদের কারবারে সম্পৃক্ত আর ইসলামী ব্যাংক ব্যবসায়িক কর্মকাÐে সম্পৃক্ত। আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ্ ব্যবসাকে করেছেন হালাল আর সুদকে করেছেন হারাম।’ [সুরা বাকারা : আয়াত ২৭৫]
অনেকে বলেন, ইসলামী ব্যাংক থিওরিটিক্যালি যতটা ইসলামের কথা বলে, প্রাক্টিক্যালি তারা ততটা ইসলামী রীতিনীতি মানে না। বরং তারা অনেকটাই কনভেনশনাল ব্যাংকের মতোই চলে। অনেকেই এমন অভিযোগ করে থাকেন। এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো প্রতি বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ বিনিয়োগ থেকে কমপেনসেশন (জরিমানা) হিসেবে প্রাপ্ত কোটি কোটি টাকা এবং শরীয়াহ্ বিধিবহির্ভূত বিনিয়োগ থেকে ডাউটফুল ইনকাম হিসেবে অর্জিত লক্ষ লক্ষ টাকা সমাজ সেবামূলক খাতে প্রদান করে যাচ্ছে; এর পরেও কি এ কথা বলা ঠিক হবে যে, ইসলামী ব্যাংকগুলো থিওরিটিক্যারী যতটা ইসলামের কথা বলে, প্রাক্টিক্যালি তারা ততটা ইসলামী রীতিনীতি মানে না বা তারা কনভেনশনাল ব্যাংকের মতোই। তা ছাড়া ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়মিত অডিটের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন শাখায় অডিট করে বিভিন্ন রকমের ত্রæটি বিচ্যুতি চিহ্নিত করে সেগুলো সংশোধনের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণ : ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ