বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,২২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

একটি চিঠি ও নদীর গল্প!

AmaderIslam.COM
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৭
news-image

আমিন ইকবাল : গল্পটা বহুকাল আগের। তবে জীবন্ত। তখন হজরত ওমর রা.-এর যুগ। মিসর বিজয়ের পর একটি প্রতিনিধি দল তৎকালীন মিসরের গভর্নর হজরত আমর ইবনুল আস রা.-এর কাছে এসে বলল, ‘আমিরুল মুমিনিন! নীল নদের পানি শুকিয়ে গেছে। আর আমাদের দেশে পূর্ব থেকেই একটি প্রথা প্রচলিত আছে, পালন না করা পর্যন্ত নীল নদে আর পানি প্রবাহিত হবে না।’ হজরত আমর ইবনুল আস রা. বললেন, ‘তোমাদের দেশের প্রচলিত প্রথাটি কি?’ তারা বলল, ‘আমাদের দেশের প্রচলিত নিয়মÑ প্রতি বছর এ সময় যখন নীল নদের পানি প্রবাহ শুকিয়ে যায়, তখন আমরা মা-বাবার আদরের একজন যুবতী কুমারীকে সাজিয়ে-গুছিয়ে নীল নদে বলি দিই। তারপরই নীল নদে পানি প্রবাহিত হয়। এ বছরও সে সময়টি এসে গেছে।’ হজরত আমর ইবনুল আস রা. বললেন, ‘এসব জাহিলিয়্যাত যুগের প্রথা। আল্লাহর শপথ। ইসলামি যুগে আর এ প্রথা চলবে না। ইসলাম জাহিলিয়্যাতের সব প্রথা ও নিয়মনীতিকে চিরতরে নির্মূল করে দিয়েছে। যুবতী বলির মাধ্যমে আর কোনো দিন নীল নদের প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে না।’
প্রতিনিধি দল একেবারে হতাশ হয়ে গেল এবং এ প্রথা কার্যকর না হওয়াতে নীল নদের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে ভেবে অনেকেই দেশ ত্যাগের ইচ্ছা করল। হজরত আমর ইবনুল আস রা. ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে হজরত ওমর রা.-কে চিঠি লিখলেন। উত্তরে হজরত ওমর রা. লিখলেন যে, ‘আপনি মিসরবাসীকে যা বলেছেন, ঠিকই বলেছেন। আপনার সিদ্ধান্ত সঠিক। ইসলাম জাহিলিয়্যাতের কুপ্রথাসমূহ মূলোৎপাটন করে দিয়েছে।’
আর হজরত আমর ইবনুল আস রা.-কে লিখলেন, ‘আপনার পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত পত্রটি নীল নদে ফেলে দেবেন।’ হজরত আমর রা. সংযুক্ত পত্রটি দেখলেন, এতে লেখা আছেÑ ‘এ পত্র আল্লাহর বান্দা আমিরুল মুমিনিন ওমর রা.-এর পক্ষ থেকে মিসরে প্রবাহিত নীল নদের প্রতিÑ হামদ ও সালাতের পর, ‘‘হে নীল নদ! তুমি যদি নিজ ক্ষমতায় প্রবাহিত হয়ে থাক, তবে তোমার পুনরায় প্রবাহিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আর যদি তোমাকে আল্লাহতায়ালা প্রবাহিত করে থাকেন, তবে আমি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, তিনি যেন তোমাকে পুনরায় পূর্বের ন্যায় প্রবাহিত করে দেন।’’
হজরত আমর রা.-এর কাছে এ চিঠি পৌঁছার পর নীল নদের গতিরোধ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের পূর্ব রাতেই হজরত আমর ইবনুল আস রা. আমিরুল মুমিনিনের এ চিঠি নীল নদে ফেলে দিলেন। পরদিন ভোরবেলা সবাই দেখলেন, এক রাতেই আল্লাহর হুকুমে ১৬ হাত উঁচু হয়ে নীল নদ পানিতে ভরপুর হয়ে আছে। সুবহানাল্লাহ!
সূত্র : কিতাবুল ইছমত