সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

বাবা-মাকে ‘উহ্’ শব্দটিও বলো না

AmaderIslam.COM
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৭
news-image

হাসান আল মাহমুদ: বাবা-মার মাধ্যমে সন্তান দুনিয়ায় আলোর মুখ দেখে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সন্তান বেড়ে ওঠে, বড় হয়। অনেক কষ্ট করে বাবা-মা আদরের সন্তানকে মানুষ করেন। এত কষ্ট করার পর সন্তান বড় হয়ে যদি বাবা-মার অবাধ্য হয়, তাদেরকে কষ্ট দেয়Ñ বাবা-মার তখন দুঃখের অন্ত থাকে না। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়ই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয় তবে তাদের ‘উহ্’ শব্দটিও বলো না (অর্থাৎ তারা কষ্ট পেতে পারে এমন কোনো শব্দ তাদের সামনে উচ্চারণ করা যাবে না)। তাদের ধমক দিও না। তাদের সঙ্গে নরম স্বরে কথা বলো। তাদের সামনে নত হয়ে বসো। এবং তাদের জন্য এই দোয়া করো, ‘হে আল্লাহ! আমার পিতা-মাতার প্রতি আপনি দয়া করুন, যেমনি তারা শিশুকালে আমার প্রতি দয়া করেছেন।’ [সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ২৩-২৪]।
হাদিস পাকে এরশাদ হচ্ছে, হজরত ইবনে হাকিম রা. তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করব? তিনি বললেন, তোমার মায়ের সঙ্গে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এরপর কার সঙ্গে? তিনি বললেন, তোমার মায়ের সঙ্গে। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, তারপর কার সঙ্গে? তিনি বললেন, তোমার মায়ের সঙ্গে। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, তারপর কার সঙ্গে? তিনি বললেন, অতঃপর তোমার পিতার সঙ্গে। এরপর নিকটাত্মীয়তার ক্রমানুসারে সদ্ব্যবহার করবে। [তিরমিজি শরিফ]। আরেকটি হাদিস বিখ্যাত সাহাবি হজরত ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সা.কে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! সর্বোত্তম কাজ কোনটি? তিনি বললেন, নামাজ যথাসময়ে আদায় করা। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! এরপর কোনটি? তিনি বললেন, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। আমি আবারও জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! এরপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। এরপর রাসুলুল্লাহ সা. আমাকে কিছু বলা থেকে নীরব থাকেন। আমি যদি তাঁকে আরও জিজ্ঞাসা করতাম, তবে নিশ্চয়ই তিনি আমাকে আরও জানাতেন। [তিরমিজি]।
এমন আরও অনেক হাদিস দ্বারা পিতা-মাতার মর্যাদা প্রতীয়মান হয়। আমাদের উচিত, পিতা-মাতা যদি জীবিত থাকেন তাহলে তাদের খেদমত করা। আর তারা যদি জীবিত না থাকেন তাহলে তাদের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা। কিছু দান-সদকা করে পিতা-মাতার রুহে সওয়াব পৌঁছানোর চেষ্টা করা। হাদিসে আছেÑ পিতা-মাতার জন্য তাদের নেক সন্তানের দোয়া আল্লাহ কবুল করে থাকেন।