সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

বাবা-মায়ের সঠিক নির্দেশনা পেলে শিশু ভালোভাবে বেড়ে ওঠে

AmaderIslam.COM
মার্চ ৫, ২০১৭
news-image

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ: শিশু-কিশোরদের কাদামাটির সঙ্গে তুলনা করা হয়। শিশুরা পরিবার থেকে প্রথমে শেখে। এ কারণে পরিবারকে বলা হয় মানব জীবনের প্রধান বুনিয়াদ। সুষ্ঠুভাবে শিশু-কিশোরের ব্যক্তিত্ব বিকাশে এবং কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে একটি সুসংহত পরিবারের দায়িত্ব অপরিসীম।

বস্তুত কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে ধর্মীয় অনুশীলনের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। ধর্ম মানব জীবনকে পরিপূর্ণ ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে যুগে যুগে যত ধর্ম এসেছে, যত ধর্মগুরু এসেছেন- সবাই অন্যায়ের বিপক্ষে ন্যায়ের ও মানবতার জয়গান গেয়েছেন। সততা, সাধুতা, সেবা, সংযম, সৌজন্য, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, সদাচার, দয়া, ক্ষমা, প্রেম, পরোপকার, পরমতসহিষ্ণুতা, বিনয় ও বদান্যতা ইত্যাদি সব ধর্মেরই সারকথা।

সব ধর্মই তার অনুসারীকে শৈশব-কৈশোর থেকে সৎ পথে চলার, সুন্দরভাবে বাঁচার ও সরলপথ অনুসরণ করার তাকিদ দিয়েছে। সুতরাং আশৈশব স্বধর্মের বিশুদ্ধ চর্চা ও যথাযথ অনুশীলন ব্যক্তির অপরাধস্পৃহা অবদমনসহ আত্মশুদ্ধির জন্য সহায়ক।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে, প্রথম সাত বছর তাকে (সন্তানকে) মুক্ত রাখ, দ্বিতীয় সাত বছর তাকে শিষ্টাচার (আদব) শিক্ষা দাও এবং তৃতীয় সাত বছর তার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোল।

ইসলাম অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করতে চায়। এ কারণে ইসলাম মানুষের নৈতিক সুরক্ষার্থে কিশোরদের সুন্দর ও নির্মলভাবে লালন ও প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ার কথা বলে।

কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে শিশুকে ধর্মের বিশুদ্ধ চর্চা ও যথাযথ অনুশীলন শেখাতে হবে। সেই সঙ্গে সুশিক্ষক নিয়োগ এবং কিশোর শিক্ষার্থীদের বয়স, সামর্থ্য ও অভিরুচির প্রতি লক্ষ্য রেখে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা প্রয়োজন। তবে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সবার আগে পরিবার থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। বাবা-মায়ের সঠিক নির্দেশনা পেলে একটি শিশু ছোট থেকেই ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। আর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সমস্যা থাকলে তার প্রভাব শিশুটির ওপর পড়তে বাধ্য।