সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

ইসলামে নারীর মর্যাদা

AmaderIslam.COM
মার্চ ১৩, ২০১৭
news-image

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ: আল্লাহতাআলা পুরুষের জন্য যত গুণ ও মর্যাদা নিরূপণ করেছেন, ঠিক সঙ্গে সঙ্গে নারীদেরও সেসব গুণ ও মর্যাদায় শামিল রেখেছেন। তাদের উভয়ের জন্যই ক্ষমা ও পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে আল্লাহতাআলা বলেন,“নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ঈমানদার পুরুষ, ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ, ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোজা পালনকারী পুরুষ, রোজা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী পুরুষ, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী নারী, আল্লাহর অধিক জিকিরকারী পুরুষ ও জিকিরকারী নারীদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।” (সুরা আহজাব : আয়াত ৩৫)।

ইসলাম নারীকে যে মর্যাদা দিয়েছে তা অনুধাবন করতে হলে অতীতের ইউনানি সমাজ, রোমান সমাজ, ইয়াহুদি সমাজ, খ্রিস্টান সমাজ, বৌদ্ধ সমাজ, আইয়্যামে জাহেলিয়াতের সময়কালসহ হিন্দু সমাজের নারীদের অবস্থানের দিকে তাকাতে হবে।

ইসলাম নারীদের যে মর্যাদা ও অধিকার দিয়েছে তার পার্থক্য নিরূপণ করতে হলে পূর্ববর্তী সব সমাজের নিয়ম-কানুনের সঙ্গে কুরআন-সুন্নাহর বক্তব্য মিলিয়ে দেখলেই তা প্রকাশ পেয়ে যাবে।

আবার ইসলামের আগমনের পূর্বে একটা সময় এমন করুণ ছিল যে, কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করাকে কুলক্ষণ, দুঃসংবাদ, লজ্জা এবং দারিদ্র্যের কারণ মনে করা হতো। যে কারণে তারা তাদের সদ্য জন্ম নেয়া এসব নিষ্পাপ কন্যাসন্তানদের জীবন্ত মাটিচাপা দিতো। ওই সব লোকদের ধিক্কার জানিয়ে আল্লাহ বলেন, “আর যখন সুসংবাদ দেয়া হয় তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের, তার মুখমÐল কালো হয়ে যায় আর সে হয় বড়ই ব্যথিত। সে মুখ লুকায় লোকদের থেকে, তাকে যে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে তার গøানির কারণে। সে কি একে (জীবিত) রাখবে বেইজ্জতি সত্তে¡ও, না তাকে পুঁতে রাখবে (জীবন্ত কবর দেবে) মাটিতে। তাদের ফায়সালা কতই না নিকৃষ্ট।’ (সুরা নহল : আয়াত ৫৮-৫৯)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন ও সুন্নাহর বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারীদের যথাযথ মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করার তাওফিক দান করুন এবং ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিকভাবে নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কুরআনের বিধান যথাযথ বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।