সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

অনুশোচনাই ক্ষমা লাভের উপায়

AmaderIslam.COM
মার্চ ১৫, ২০১৭
news-image

ডেস্ক নিউজ : আল্লাহ তাআলার দরবারে এক অফুরন্ত রহস্যের নাম তাওবা ও ইসতিগফার। যে রহস্য শুধুমাত্র তাওবাগ্রহণকারী এবং ক্ষমার অধিকারী আল্লাহই ভাল জানেন। তিনি তখনই সবচেয়ে বেশি খুশি হন, যখন বান্দা অন্যায় করার পর ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ফরিয়াদ করে। আর বলে, ‘হে আল্লাহ! আমি ভুল করেছি; আমাকে ক্ষমা করে দিন।

আল্লাহ তাআলার নিকট তাওবা ও ইসতিগফার সম্পর্কে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের উদ্দেশ্যে হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করেছেন।

হজরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (এ কথা) বলতে শুনেছি আল্লাহ বলেন,

‘হে আদম সন্তান! যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমার কাছে দোয়া করতে থাকবে এবং আমার কাছে প্রত্যাশা করতে থাকবে; ততক্ষণ আমি তোমার গোনাহ ক্ষমা করতে থাকব।

তোমার গোনাহের পরিমাণ যত বেশিই হোক এবং যত বড়ই হোক না কেন। এ গোনাহের পরিমাণ যদি আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং তুমি যদি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তাহলেও আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। এ ব্যাপারে আমি কোনো পরোয়া করব না।

হে আদম সন্তান! তুমি যদি আমার কাছে পৃথিবীর সমান গোনাহসহ উপস্থিত হও এবং আমার সাথে কাউকে শরিক (অংশীদার) না করে থাক; তাহলে আমিও ঠিক পৃথিবী সমান ক্ষমা নিয়ে তোমার দিকে এগিয়ে যাব। (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ, দারেমি ও মুসতাদরেকে হাকেম)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বলে ‘আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা- ইলা-হা ইল্লা- হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি।’ তবে তার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়, এমনকি সে ব্যক্তি যদি যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পলায়ন করার মতো গোনাহ করলেও।’(তিরমিজি ও মুসতাদরেকে হাকেম)

তাওবার গুরুত্ব ফুটে উঠেছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছোট্ট একটি হাদিসে। তিনি বলেছেন, ‘পাপের কাফফারা হল অনুতাপ বা অনুশোচনা। আর অনুতাপই হচ্ছে তাওবা।’ (মুসনাদে আহমাদ ও ইবনু মাজাহ)

ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক কোনো অন্যায় কথা বা কাজ ঘটে গেলে তা থেকে মুক্তি লাভে আল্লাহ তাআলার নিকট অনুতাপ বা অনুশোচনার বিকল্প নেই। চাই সে গোনাহ যত বড়ই হোক আর ছোটই হোক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে ফিরে আসতে তাওবা ও ইসতিগফার করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও দয়া লাভে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন।