মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১১ আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,৫ মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

এ্যালকোহলযুক্ত পণ্য ব্যবহারের বিধান কী?

AmaderIslam.COM
মার্চ ১৮, ২০১৭
news-image

ওমর শাহ : ইমাম আবু হানীফা রহ. এর মতে, মদ বা এ্যালকোহেল হল, যা আঙ্গুরের কাচা রস থেকে তৈরি  হয়। এটি যখন ভালভাবে জ্বাল দেওয়া হয় তখন তা মদ হয়। মোটকথা যে মদ বা এ্যালকোহেলের উপাদান আঙ্গুর সেটাই কেবল মদ। এটি নাপাক। এটি ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবহার অল্প বা বেশি নেশা হোক বা না হোক সবই হারাম। এ ব্যাপারে সবাই একমত।

আরেক হল, এমন মদ  যার উপাদান- খেজুর বা কিসমিস। এটিও হারাম, নাপাক। অল্প হোক বেশি হোক পান করা হারাম। তবে এর নিষিদ্ধতা প্রথমটার মত মযবুত নয়। তাই এ ধরনের মদ্যপায়ীর উপর ইসলামী হদ (শাস্তি) কার্যকর হয় না। এই কারণে তা বৈধ উদ্দেশ্যে বিক্রয় জায়েয। যেমন মেডিসিনের ব্যবহারের জন্য উক্ত প্রকার এ্যালকোহেল ক্রয়-বিক্রয় করা। তবে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ রহ. এর মতে এটিও বিক্রি জায়েয নয়। হারাম। তৃতীয় প্রকার এ্যালকোহেল হল-যার উপাদান উপরোক্ত বস্তু ছাড়া অন্য কিছু। যেমন গম, যব বা অন্য কোন শষ্য, মধু ইত্যাদি।

এসব এ্যালকোহেলের বিধান হল, নেশা উদ্রেক করে না -এ পরিমাণ ব্যবহার করা বৈধ। নেশা উদ্রেক করে এ পরিমাণ ব্যবহার করা বৈধ না। এটি ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আবু ইউসুফ রহ. উভয়ের মত।

বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যতম ইসলামিক স্কলার শাইখুল ইসলাম মুফতী ত্বাকী দা.বা. এ বিষয়ে যা লিখেছেন তার সার সংক্ষেপ হল,

“বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে এ্যালকোহেল ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন ঔষধ তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাসায়নিক বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বহু শিল্প কারখানা এ্যালকোহেলের ব্যবহার করা ছাড়া চলা সম্ভব নয়। এক কথায় বর্তমান সময়ে বহু মানুষ এর সাথে জড়িত। এবং এর প্রচন্ড প্রয়োজনয়ীতা রয়েছে। এখন আমাদের দেখার বিষয়, যদি এসব এ্যালকোহেল আঙ্গুরের কাচা রস থেকে তৈরি না হয় তবে তা বৈধ কাজে ব্যবহার করা ইমাম আবু হানীফা রহ.এর মতে বৈধ।

‘ইনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা’ (খ.১,পৃ.৫৪৪,প্রকাশকাল ১৯৫০খৃ.)-এ- বর্তমান বিশ্বে এ্যালকোহেল কীসের থেকে তৈরি হয় এর একটি তালিকা দেয়া হয়েছে, সে তালিকায় আছে, মধু, শষ্য, যব, আনারসের রস, গন্ধক ও সালফেট অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান। তবে তাতে কোথাও আঙ্গুর বা খেজুরের কথা নেই। সার কথা, ইমাম আবু হানিফা রহ. এর মতানুযায়ী বাজারে প্রচলিত এ্যালকোহেল যদি খেজুর ও আঙ্গুর থেকে প্রস্তুত না হয় তবে তা বৈধ কাজের উদ্দেশ্যে ব্যবহার বৈধ হবে। নেশার উদ্রেক হয় না এ পরিমাণ ব্যবহার করা যাবে।

আর এটিই স্বাভাবিক সত্য যে, বর্তমানে অধিকাংশ এ্যালকোহেল আঙ্গুর ও খেজুর থেকে তৈরি হয় না। সুতরাং এসব বৈধ উদ্দেশ্যে ক্রয়- বিক্রয় করা যাবে। তদ্রæপ ঔষধ তৈরিতে বা চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা যাবে। অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে।” (দেখুন তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/৩৪৮,৩/৩৩৭; ফিকহুল বুয়ূ ১/২৯৮)

উল্লেখ্য যে, যদি কোন এ্যালকোহেলের ব্যাপারে প্রমাণিত হয় যে, তা আঙ্গুর ও খেজুর থেকে তৈরি তাহলে তা ব্যাবহার করা যাবে না।

সূত্র : আহলে হক মিডিয়া সার্ভিস