সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

জ্ঞানের জগতের শ্রেষ্ঠ নক্ষত্র শাহ ওয়ালিউল্লাহর সংক্ষিপ্ত জীবনী

AmaderIslam.COM
মার্চ ১৮, ২০১৭
news-image

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ : শাহ ওয়ালিউল্লাহ, উপাধি কুতুবুদ্দীন ও হুজ্জাতুল ইসলাম। তার ডাক নাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দাসে দেহলভী, এই নামেই বিশ্বে তিনি খ্যাতি লাভ করেন। তার পিতার নাম শাহ আবদুর রহীম। বংশ পরিচয় পিতার দিক থেকে হযরত ওমর ফারুক (রাঃ), মাতার দিক থেকে মুসা কাজিম (রাঃ) পর্যন্ত পৌঁছে। জন্ম ১৭০৪ খৃষ্টাব্দে মুতাবিক ১১১৪ হিজরী সনের ১৪ই শাওয়াল বুধবার দিল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১১৭৬ হিজরী সনের ২৯শে মুহাররম মাসে ১৭৬৩ খৃষ্টাব্দে যোহরের সময় দিল্লীতে ইন্তেকাল করেন।

পাঁচ বছর বয়সেই কুরআন শিক্ষার জন্য তাকে মক্তবে ভর্তি করা হয়। সাত বৎসর বয়সে তিনি কুরআনের হাফেজ হন। হেফজ শেষ করার সাথে সাথে সাত বছর বয়স থেকে ফার্সি পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। দশ বছর বয়সে শরহে মুল্লাজামী আয়ত্ত করেন।

মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি নাহু ছরফে এমন দক্ষতা অর্জন করেন যে, উক্ত বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণ পর্যন্ত তার সামনে এসে মাথা নত করতে বাধ্য হতেন। লোগাত, বালাগাত, ফেকাহ, হাদীস, তফসীর, তাসাওফ, আকায়েদ, মান্তেক, চিকিৎসা শাস্ত্র, দর্শন, অংক, জ্যোতির্বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ক কিতাব তার পিতা শাহ আঃ রহীম সাহেব (রাঃ) এর কাছে পড়েন। মাত্র পনের বছর বয়সে এই সমস্ত বিষয়ের উপর তিনি পান্ডিত্য অর্জন করেন। পুঁথিগত সকল বিদ্যা সমাপ্ত করে তিনি তার পিতার হাতে আধ্যাত্মিক জ্ঞানার্জনের জন্য বাইয়াত হন। তিনি অধ্যাত্ম চর্চার ক্ষেত্রে এরূপ অর্জন করেন যে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি এই জগতেও যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেন। আধ্যাত্মিক তালীম শেষ হলে তার পিতা তার মাথায় দস্তারে ফজিলত বেঁধে দেন এবং তাকে সুলুকের তালীমদানের অনুমতি প্রদান করেন। শাহ সাহেবকে তার পিতা চৌদ্দ বছর বয়সে সুন্নাতে শা’দীর কাজ সম্পন্ন করান।

শাহ ওয়ালিউল্লাহ (রা) ছিলেন ভারতবর্ষের জ্ঞানের জগতের শ্রেষ্ঠ নক্ষত্র। শুধু তাই নয়, তিনি ছিলেন জ্ঞান পিপাষুদের তৃষ্ণা নিবারণের হাউজে কাউসার। আল্লাহতায়ালা পাক-ভারত উপমহাদেশে হাদিস ও সুন্নাতে রাসুল এর প্রভাব, প্রসার ও উন্নতি শাহ ওয়ালিউল্লাহ (রাঃ) ও তার সন্তান-সন্তুতি শিষ্য, সাগরেদদের দ্বারা ঘটিয়েছেন। ভারতবর্ষে হাদিসের সনদ শাহ সাহেবের উপর নির্ভরশীল। এ উপমহাদেশে শাহ সাহেবের অবস্থান জান্নাতের তুবা বৃক্ষের ন্যায়, যার মূল শাহ সাহেবের বাড়িতে আর শাখা প্রশাখা প্রতিটি মুসলিমের ঘরে ঘরে।

জ্ঞানের প্রতি শাখায় রয়েছে তার লিখনী, বিশেষ করে হাদীস তফসীর উভয় শাস্ত্রের মূলনীতির উপরে তার লিখনীই যুগ শ্রেষ্ঠ।

১। ফার্সি ভাষায় তার কোরআন তরজমা, আরবী কাব্যের সাদৃশ্যে। (২) আল ফাউযুল কবীর ফি উসুলিত তফসীর। (৩) আল ইরশাদ ইলা মুহিম্মাতি ইলমিল ইসনাদ। (৪) হুজুতুল্লাহিল বালিগা। (৫) ইকদুল যীদ ফী আহকামিল এজতিহাদি আততাকলিদ (৬) আল আনছাফ ফি বয়ানি সাবিলিল ইখতিলাফ (৭) ইযালাতুল খিফা আন খিলাফাতিল খুলাফা (৮) আত তাফহিমাতুল ইলাহিয়্যা (৯) আল মুসাফফা শরহে মুয়াত্ত¡া (ফার্সি) (১০) আল মিসাওয়া শরহে মুয়াত্তা (আরবী)। এছাড়াও শাহ সাহেবের লিখিত কিতাব রয়েছে চল্লিশটির বেশি।