সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

মদ পানে জান্নাত হারাম হয়ে যায়

AmaderIslam.COM
মার্চ ২১, ২০১৭
news-image

ইসলাম ডেস্ক : আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে সর্ব প্রথম মদকে অপছন্দনীয় ও পাপের কাজ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। পর্যায়ক্রমে মাদকদ্রব্যের অপকারিতার কারণে তা মানুষের জন্য হারাম ঘোষণা করেছেন। কুরআন-সুন্নায় মদসহ যাবতীয় মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর বিষয় সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মদসহ মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে অশ্লীল গালমন্দ ও বেহায়াপনা, হারাম কাজের প্রতি আহ্বান, দ্ব›দ্ব-কলহ, বিভিন্ন জীবন বিনাশকারী রোগের উদ্ভব, চরি-ডাকাতি ও খুনের প্রতি উৎসাহ প্রদানসহ সব ধরনের অন্যায় ও গর্হিত কাজ অহরহ ঘটে থাকে।

মদ পান প্রসঙ্গে হজরত মাআজ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ‘তোমরা কিছুতেই মদ্যপান কর না; কারণ এটি সব মন্দ কাজের উৎস। (মুসনাদে আহমদ)

অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ব্যভিচারী ব্যক্তি ব্যভিচারের সময় মুমিন থাকে না; চোর চুরি করার সময় মুমিন থাকে না এবং মদ্যপানকারী ব্যক্তি মদ পান করার সময় মুমিন থাকে না। (বুখারি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদ্যপানকে সর্ব প্রকার নির্লজ্জ্পনা ও অশ্লীলতার উৎস এবং সব কবিরা গোনাহের চেয়েও বড় গোনাহ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি মদ্যপান করেছে, সে নামাজ ত্যাগ করেছে অর্থাৎ এর ফলে তার নামাজ হয় না।

মদসহ মাদকদ্রব্য পানের অপকারিতা বর্ণনায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস হলো-

‘যে ব্যক্তি মদ্যপান করে তার চল্লিশ দিনের নামাজ আল্লাহ তাআলা কবুল করেন না। এরপর যদি সে তাওবা করে তবে আল্লাহ তার অপরাধ ক্ষমা করে দেন।

এরপর যদি সে আবার মদ্যপান করে তবে তার চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামাজ কবুল হয় না। অতঃপর সে যদি আবার তাওবা করে আল্লাহ আবার তাকে মাফ করে দেন।

তৃতীয়বারও এমনই হয়ে থাকে। এরপর যদি ওই ব্যক্তি চতুর্থ বার মদ্যপান করে তবে আবার চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামাজ কবুল হয় না। এবার যদি সে তাওবা করে তাহলে তার তাওবা কবুল হয় না। অতঃপর কেয়ামতের দিন তাকে পুঁজ ইত্যাদির নদী থেকে পান করানো হবে।’ (নাসাঈ)

অন্য হাদিসে হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘মদ সমস্ত মন্দ কাজের উৎস। যে ব্যক্তি মদ পান করে; চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামাজ কবুল হয় না। যদি সে মদ পান করার পর মৃত্যুবরণ করে, তবে সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করলো।’ অন্য হাদিসে প্রিয়নবি ঘোষণা করেছেন, যে ব্যক্তি মদ্যপান করবে, ওই ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তাআলা জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন।