মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১১ আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,৫ মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

শিশুর প্রতি নবীজীর ভালোবাসা

AmaderIslam.COM
মার্চ ২১, ২০১৭
news-image

মোস্তফা কামাল গাজী : শিশু নির্যাতন করা হচ্ছে দিব্যি। অবাধে শিশুশ্রমে বাধ্য করা হচ্ছে শিশুদের।  যা একটি আদর্শ দেশ, জাতির জন্য বড়ই দুঃখজনক।  শিশুরা সাংসারিক ও সামাজিক বন্ধনকে অটুট রাখে। তাই তাদের ইসলামি সভ্যতা, আচার-ব্যবহার শিক্ষা দেয়া পিতামাতার অবশ্য কর্তব্য। ইসলাম মানবতার ধর্ম, ন্যায় ও শান্তির ধর্ম। ইসলাম একে অপরকে ভালোবাসতে শেখায়, অন্যের প্রতি সহনশীল হতে শেখায়।

বিশেষকরে কোমলমতি শিশুর প্রতি সুন্দর আচরণ করতে ইসলাম নির্দেশ দেয়। এ সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শিশুকে স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান দেয় না, সে আমার দলভুক্ত নয়। ’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)। হাদিসটির আলোকে ওলামায়ে কেরাম বলেন, ‘ছোটদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা কবিরা গোনাহ।’ আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও পরকালে নাজাত পেতে হলে শিশুদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করা চাই। নবী করিম (সা.) শিশুদের যথেষ্ট ভালোবাসতেন, খুবই স্নেহ করতেন। কাছে ডেকে কোলে নিয়ে চুমু খেতেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত; একদিন রাসুল (সা.) এর নাতি হজরত হাসান (রা.)-কে চুমু খেলেন। সে সময় তাঁর কাছে আকরা বিন হারেস (রা.) উপস্থিত ছিলেন। বললেন, ‘আমি দশ সন্তানের জনক। কিন্তু কখনও তাদের কাউকেই আদর করে আজ অবধি চুমু খাইনি।’ মহানবী (সা.) বললেন, ‘যে দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হয় না। ’ (বোখারি : ৫৬৫১)।  আরেক হাদিসে আছে, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, এক গ্রাম্যব্যক্তি নবী করিম (সা.)-এর কাছে এলো। নবীজি তাকে বললেন, ‘তোমরা কি তোমাদের শিশুদেরকে চুমু খাও?’ সে বললো, ‘জী না।’ নবী করিম (সা.) বললেন, ‘তোমাদের অন্তরে যদি দয়া-মায়া না থাকে, তাহলে আমার কী করার আছে!’ (বোখারি : ৫৬৫২, মুসলিম : ৬৪)।

রাসুল (সা.) শিশুদের দেখলে কাছে ডেকে কোলে তুলে আদর করতেন। কখনও কখনও ছোট বাচ্চারা তাঁর কোলে পেশাব করে দিতো। এতে তিনি একটুও বিরক্ত হতেন না। একদিন তিনি খেতে বসেছিলেন। কিন্তু খাওয়া তখনও আরম্ভ করেননি। এরই মধ্যে হজরত উম্মে কায়েস বিনতে মুহসিন (রা.) তার শিশুপুত্রটিকে কোলে করে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে দেখা করতে এলেন। শিশুটিকে দেখে রাসুল (সা.) তার দিকে এগিয়ে এলেন। পরম আদরে শিশুটিকে কোলে নিয়ে আবার খাবারের জায়গায় বসলেন। শিশুটি নবীজির আদর পেয়ে তাঁর কোলেই পেশাব করে ভিজিয়ে দিলো তাঁর কাপড়।  রাসুল (সা.) এতে বিরক্ত হলেন না, বরং খুশি হয়ে মুচকি হাসলেন। একজনকে জল আনতে বললেন। জল আনা হলে তিনি নিজ হাতে কাপড়টি ধুয়ে নিলেন। (বোখারি :২২০)।

মহানবী (সা.) শিশুদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে রসিকতা, হাসি-আনন্দও করতেন। কখনও ঘোড়া সেজে নাতি হজরত হাসান, হোসাইন (রা.)-কে পিঠে চড়াতেন, কখনও সুন্দর সুন্দর মজার কথা বলে তাদের আনন্দ দিতেন। শিশুদের খোঁজখবর রাখতেন সবসময়। হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের বাড়িতে আসতেন। আমার ছোট ভাইয়ের উপনাম ছিলো আবু উমায়ের। ওর একটি বুলবুলি পাখি ছিলো। সে প্রিয় পাখিটি নিয়ে খেলা করতো প্রায়ই। একদিন পাখিটি মারা গেলো। সেদিন রাসুল (সা.) আমাদের বাড়িতে এসে দেখলেন, আবু উমায়েরের মনটা খারাপ। নীরব বসে আছে সে।  মহানবী (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘আবু উমায়েরের কি হয়েছে?’ সবাই বললো, ‘ওর বুলবুলিটা মারা গেছে।’ মহানবি (সা.) ওকে সান্ত¡না দিলেন।  হাস্যোচ্ছলে বললেন, ‘আবু উমায়ের, কোথায় তোমার নুগায়ের?’ (সুনানে আবু দাউদ : ৪৯৭১)।

লেখক : শিক্ষার্থী, দারুল উলুম দেওবন্দ, ভারত।