মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১১ আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,৫ মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

হযরত খাব্বাব (রা.) এর কাহিনী

AmaderIslam.COM
মার্চ ২১, ২০১৭
news-image

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ: রাসুলুল্লাহর (সা.) সাহাবীদের মধ্যে যাঁরা আল্লাহর রাস্তায় জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা কাফিরদের নির্যাতনের অগ্নিপরীক্ষায় নিজেদের পেশ করেছেন, হযরত খাব্বাব (রা.) তাঁদের অন্যতম। পাঁচ-ছয় জন লোক মুসলমান হওয়ার পরেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন; সেজন্য সুদীর্ঘ সময় তাকে কাফিরদের নির্যাতন ভোগ করতে হয়।

লৌহবর্ম পরিয়ে তাকে রোদে ফেলে রাখা হত; ফলে তার শরীর থেকে ঘাম বের হতে থাকতো। অধিকাংশ সময় তাকে নগ্ন দেহে তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে রাখা হত। যার ফলে প্রচÐ তাপে তার কোমরের মাংস গলে পড়ে গিয়েছিল।

তিনি এক কাফের স্ত্রীলোকের ক্রীতদাস ছিলেন। তার মনিব যখন জানতে পারলো যে, তিনি নবী করীম (সা.) এর নিকট আসা-যাওয়া করেন, তখন ঐ নারী লোহা গরম করে তার মাথায় দাগ দিতো।

হযরত ওমর (রা.) তার কাছ থেকে নির্যাতন ভোগের বিস্তারিত বিবরণ জানতে চান। তখন হযরত খাব্বাব (রা.)বলেন, “আমার কোমর দেখুন!”

হযরত ওমর (রা.)তার কোমর দেখে বলেন, এমন কোমর তো আমি কোথাও দেখি নাই।

তখন হযরত খাব্বাব (রা.) বললেন, আমাকে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর রেখে চেপে ধরতো ফলে আমার চর্বি এবং রক্তে গলে আগুন নিভে যেত।

এমন নির্মম শাস্তি ভোগ করা সত্তে¡ও ইসলামের যখন শক্তি বৃদ্ধি হলো এবং মুসলমানদের বিজয় আসতে লাগলো তখন তিনি উচ্চ কণ্ঠে কেঁদে কেঁদে বলতেন, আল্লাহ না করুন! আমার কষ্টের পুরস্কার দুনিয়াতেই যেন লাভ না হয়ে যায়।

মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে হযরত খাব্বাবের মৃত্যু হয় এবং সাহাবাদের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনিই কুফায় কবরস্থ হন। তার মৃত্যুর পর হযরত আলী (রা.) তার কবরের পাশ দিয়া যাওয়ার সময় বলেছিলেন, আল্লাহ খাব্বাবের উপর রহম করুন! তিনি নিজের ইচ্ছায় মুসলমান হয়েছিলেন, নিজের ইচ্ছায় হিজরত করেছিলেন।