সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

ইসলামের দৃষ্টিতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ

AmaderIslam.COM
মার্চ ২৬, ২০১৭
news-image

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ: ইসলাম ধর্ম মতে, এক ও অভিন্ন উৎসমূল থেকে মানুষের সৃষ্টি। সব মানুষ হজরত আদম (আ.)-এর সন্তান। হজরত হাওয়া (আ.)-এর ঔরস থেকে মানব বংশের বিস্তার শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে আদম সন্তান বিভিন্ন গোত্র, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কেন এই বিভক্তির রেখা টেনে দেওয়া হলো? হ্যাঁ, যাতে মানুষ সামাজিক হতে পারে, বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্যের সূতিকায় আবদ্ধ হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে। অতঃপর তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারো। (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৩)

মানুষকে বলা হয় সামাজিক জীব। সৃষ্টিগতভাবে সামাজিকতার উপাদান মানুষের মধ্যে রয়েছে। সব বিষয়ে কাউকে নিরঙ্কুশ ও সার্বভৌম ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। পদে পদে মানুষকে পরনির্ভর ও পরমুখাপেক্ষী হতে হয়। তথাপি মানুষ সামাজিকতার উপাদানগুলো উপেক্ষা করে অসামাজিক হয়ে ওঠে। ক্ষমতার দ্ব›েদ্ব, আদর্শিক লড়াইয়ে, পার্থিব দুনিয়ার মোহগ্রস্ত হয়ে মানুষ সংঘাতে লিপ্ত হয়। সহিংসতা ও সন্ত্রাস করে রক্তের হোলিখেলায় মেতে ওঠে। মানুষ এখন আর আগের মতো ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ করে না। শান্তির নামে, মানবতার নামে, ধর্মের নামে ও মানুষের অধিকার আদায়ের কথা বলে এসব হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। অথচ শান্তি, মানবতা, ধর্ম ও মানুষের অধিকারের সঙ্গে এসবের সম্পর্ক নেই।

মানুষ হত্যা, সন্ত্রাস ও ত্রাস সৃষ্টি যেকোনো ধর্ম, মতাদর্শ ও সভ্যতাবিরোধী। খুনাখুনি ও রক্তপাত কেউ পছন্দ করে না। এর পরও হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ও ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য আদর্শের উগ্র উন্মাদনায় মেতে ওঠে। পার্থিব-অপার্থিব কল্যাণের অলীক আশায় সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। প্রকৃতপক্ষে সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। তাদের ধর্ম সন্ত্রাস। সারা বিশ্বেই খুন-খারাবি হচ্ছে। ইসলাম গ্রহণের কারণে নয়, পূর্ণ ইসলাম না থাকার কারণেই মানুষ সন্ত্রাসী হয়। মুসলমান সন্ত্রাসী হওয়ার পথে কুরআনই সবচেয়ে বড় বাধা। আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার শাস্তি জাহান্নাম। সেখানে সে চিরকাল থাকবে। (সুরা : নিসা, আয়াত : ৯৩)

ইসলাম ধর্ম মতে, কোনো মুসলমান হাজারো অপরাধ করলেও তার সমুদয় পাপের সাজা ভোগ করে সে জান্নাতে যাবে। কোনো মুসলিম অনন্তকাল জাহান্নামে থাকবে না। অথচ এ আয়াতে হত্যাজনিত অপরাধের কারণে অনন্তকাল জাহান্নামে থাকার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, একটি অন্যায় হত্যাকে ইসলাম বিশ্বমানবতাকে হত্যার সমতুল্য বলে ঘোষণা করেছে। কোরআন বলছে, ‘নরহত্যা কিংবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করা ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সব মানুষকেই হত্যা করল। ’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৩২)

ইসলাম কখনোই হত্যা, নৈরাজ্য সৃষ্টি, সহিংসতা ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না। পৃথিবীতে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকে নিষেধ করে আল্লাহ তাআলা বলেন, পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হইও না। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে পছন্দ করে না। (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭৭)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ফিতনা (দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও গৃহযুদ্ধ) হত্যা অপেক্ষা গুরুতর। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৯১)

অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করাকে ইসলাম বিশ্বমানবতার মৃত্যুতুল্য গণ্য করেছে। আর মুসলমানদের পারস্পরিক রক্তপাতের বিরুদ্ধে হাদিস শরিফে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া গোনাহর কাজ আর তাকে হত্যা করা কুফরি। (বুখারি, হাদিস : ৬০৪৪)