মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১১ আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,৫ মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

নবী (সা.) এর সুগন্ধি অনুরাগ

AmaderIslam.COM
মার্চ ২৬, ২০১৭
news-image

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ: সুগন্ধির প্রতি প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রচÐ অনুরাগ ছিল। মহানবী (সা.) নিজেও ছিলেন সুগন্ধির আকর। তিনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে সুগন্ধির ঝরনা বয়ে যেত। লোকেরা বুঝতে পারত, নবী করিম (সা.) এ রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেছেন। পাশাপাশি সুগন্ধি ও আতর রাসুল (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় ছিল। সুগন্ধিপ্রিয়তা নবী-রাসুলদের আদর্শ। হযরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চারটি বস্তু সব নবীর সুন্নতÑ আতর, বিয়ে, মেসওয়াক ও লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা। (মুসনাদে আহমাদ)

মহানবী (সা.) সুগন্ধির প্রতি খুবই অনুরাগী ছিলেন। হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, তোমাদের দুনিয়া থেকে আমার কাছে তিনটি জিনিস অধিক প্রিয়। নারী, সুগন্ধি, আর আমার চক্ষু শীতল হয় নামাজের মাধ্যমে। (নাসায়ি শরিফ)

সুগন্ধ ফুলের নির্যাস, মৃগনাভি ইত্যাদির সুরভিত তেল দিয়ে আতর তৈরি করা হয়। মেশক, আম্বরও উত্তম সুগন্ধি। মহানবী (সা.) মেশক খুব পছন্দ করতেন। হরিণের নাভি থেকে এটা তৈরি করা হয়। হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, উত্তম সুগন্ধি হলো মেশক। (তিরমিজি)

মেশক, চন্দন ও জাফরানের সুগন্ধি রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, মহানবী (সা.) বৈচিত্র্যময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। আল্লামা ইবনে আবদুল বার (রহ.) ‘তামহিদ’ নামক কিতাবে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) জাফরানের সুগন্ধি ব্যবহার করেছেন।

‘আল-কামেল’ নামক গ্রন্থে হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় সুগন্ধি ছিল মেশক ও চন্দন। মেশক ব্যবহারের হাদিস আয়েশা (রা.) থেকে মুসলিম শরিফেও বর্ণিত হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধ্যমতো অন্য লোকদেরও সুগন্ধি ব্যবহারের আদেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে লোকসমাগমে গেলে, জুমার দিন, ঈদের দিন সুগন্ধি ব্যবহারের বিশেষ তাগিদ রয়েছে। হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন যথাসম্ভব তোমরা সুগন্ধি ব্যবহার করো। (নাসায়ি শরিফ, হাদিস : ১৩৫৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কেউ সুগন্ধিযুক্ত কোনো বস্তু হাদিয়া দিলে তিনি তা ফেরত দিতেন না। হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো সুগন্ধি-আতর ফেরত দিতেন না। (তিরমিজি, হাদিস : ২৭১৩)