মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১১ আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,৫ মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

ইসলামের দৃষ্টিতে অর্থ সঞ্চয়

AmaderIslam.COM
মার্চ ৩১, ২০১৭
news-image

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ: ইসলামে সম্পদ খরচের ক্ষেত্রে কৃপণ হওয়া যেমন নিষিদ্ধ, তেমনই প্রাচুর্যের সময় অপচয় অপব্যয় করাও নিষিদ্ধ। পবিত্র কুরআনে কারিমে অপচয় ত্যাগের কঠোর নির্দেশ জারি করে ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা আহার এবং পান করো, আর অপচয় করো না; তিনি (আল্লাহ) অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।”(সূরা আরাফ: ৩২)

অপচয় এবং কৃপণতা দু’টোই ইসলামে নিষিদ্ধ। এই দুই প্রান্তিকতার মাঝখানে মধ্যমপন্থা হিসেবে মিতব্যয়ী হয়ে ভবিষ্যতের জন্য কিছু অর্থ সঞ্চয় করে রাখা ইসলামের শিক্ষা। যারা অপচয় এবং কৃপণতার পথ পরিহার করে মিতব্যয়িতার পথ অবলম্বন করবে আল্লাহ তাদেরকে নিজের বান্দা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ প্রসঙ্গে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, (রহমানের বান্দা তো তারাই) যারা অপব্যয়ও করে না আবার কৃপণতাও করে না। তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী। (সূরা ফুরকান: ৬৭)

বস্তুত হালাল-হারামের বিধিনিষেধ মেনে খরচ সীমাবদ্ধ করতে হবে। প্রাচুর্যের সময় খরচের উৎসবে মেতে না উঠে অপ্রয়োজনীয় কিংবা হারাম খরচ বাদ দিয়ে মিতব্যয়িতার পথ অবলম্বন করে উদ্বৃত্ত অর্থ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে হবে। যেন পরে নিজের প্রয়োজনে অন্যের কাছে হাত পাতার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, তুমি (কৃপণতাবশে) নিজের হাত ঘাড়ের সঙ্গে বেঁধে রেখে একেবারে ব্যয়-কুণ্ঠ হয়ো না। আবার (অপব্যায়ী হয়ে) একেবারে মুক্তহস্তও হয়ো না। তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে। (সূরা বনি ইসরাইল: ২৯)

ইসলাম সঞ্চয়কে কতটুকু গুরুত্ব দিয়েছে তা আরও স্পষ্ট হয় রাসুলে কারিম (সা.)-এর হাদিস থেকে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, উত্তম দান তাই, যা নিজ অভাবমুক্ততা রক্ষার সঙ্গে হয়। (সহিহ বোখারি: ২/১১২)

কৃপণ না হয়ে ইসলাম নির্দেশিত খাতে খরচে কোনো রকম দ্বিধা না করে, হারাম পথে খরচের সব পথ বন্ধ করে দিয়ে; অপচয়-অপব্যয় না করার মাধ্যমে মিতব্যয়ী হলে দারিদ্র্যমুক্ত জীবন আল্লাহ তাকে দান করবেন। এটা রাসুলে কারিম (সা.)-এর ভবিষ্যতবাণী।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলে কারিম (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি পরিমিত ব্যয় করে সে নিঃস্ব হয় না। (মুসনাদে আহমাদ: ৭/৩০৩)

অর্থাৎ যে ব্যক্তি অর্থব্যয়ে পরিমিতিবোধের চর্চা করবে, অনটন তার নাগাল পাবে না। ইসলামের এ মহান শিক্ষাটি যথাযথ অনুসরণ না করার কারণে মানুষ উপার্জনের যাচিত সুফল থেকে বঞ্চিত।