মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১১ আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,৫ মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

লাইলাতুল মেরাজ : ইতিহাসের পাতায় চির ভাস্বর

AmaderIslam.COM
মার্চ ৩১, ২০১৭
news-image

ওমর শাহ : লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রজনী, যা সচরাচর শবে মেরাজ হিসাবে আখ্যায়িত হয়। শবে মেরাজ হচ্ছে, ইসলাম ধর্মমতে যে রাতে ইসলামের নবী মুহাম্মদের (সা.) ঐশ্বরিক উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন এবং আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেই রাত। মুসলমানদের অনেকে এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এই রাতটি উদযাপন করেন। ইতিহাসে শবে মেরাজের রাতটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ নামাজ মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক অর্থাৎ (ফরজ) নির্ধারণ করা হয় এবং দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নির্দিষ্ট করা হয়।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী হযরত মুহাম্মদের (সা:) নবুওয়াত প্রকাশের একাদশ বৎসরের ৬২০ খ্রিষ্টাব্দের কোন এক মাসের কোন এক রাতে উর্ধোকাশে গমন করেন। সে রাতে তিনি প্রথমে কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন এবং সেখানে তিনি নবীদের জামায়াতে ইমামতি করেন। অতঃপর তিনি বোরাক বিশেষ বাহনে আসীন হয়ে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন। ঊর্ধ্বাকাশে সিদরাতুল মুনতাহায় তিনি আল্লাহ’র সাক্ষাৎ লাভ করেন। এই সফরে ফেরেশতা জিবরাইল তার সফরসঙ্গী ছিলেন। তবে ঐতিহাসিক রাতটির নির্দিষ্ট তারিখ কুরআন হাদিসের কোথাও স্পষ্ট করে বর্ণনা করা হয়নি।

কুরআন শরিফের সুরা বনি ইসরাঈল এর প্রথম আয়াতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘পবিত্র সেই মহান সত্তা, যিনি তাঁর এক বান্দা (মুহাম্মদ)-কে মসজিদে হারাম (কাবাঘর) থেকে মসজিদে আকসা (বাইতুল মোকাদ্দাস) পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছেন। এর মধ্যে তাকে অসংখ্য নিদর্শনাবলী দেখান হয়েছে।’ এ রাতে বিশেষ কোন আমল, নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, তসবিহ তাহলীলের কথা কুরআন হাদিসের কোথাও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। নবী সা. ও সাহাবায়ে কেরামদের কেউ এ রাতকে স্মরণ করে বিশেষ কোন আমল করেননি। এ রাতে আমলের বিশেষ কোন ফযিলতও নেই। শবে মেরাজ ছিল শুধু আল্লাহর সঙ্গে তাঁর প্রিয় রাসুলের সাক্ষাৎময় রজনী। ইসলামের ইতিহাসে এ রাত চির ভাস্বর হয়ে থাকবে।