সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট

AmaderIslam.COM
এপ্রিল ২১, ২০১৭
news-image

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ: “যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, অতঃপর মুশরিকদের বলব, তোমরা এবং তোমরা যাদের (আল্লাহর সঙ্গে) শরিক করেছিলে, তারা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো। আমি তাদের পরস্পর থেকে পৃথক করে দেব, আর (তখন) তারা যাদের (আল্লাহর সঙ্গে) শরিক করেছিল তারা বলবে, তোমরা তো আমাদের উপাসনা করতে না! আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। তোমরা আমাদের উপাসনা করার বিষয়ে আমরা তো অবহিত ছিলাম না।” (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২৮-২৯)
তাফসির : আগের আয়াতে সাধারণ জাহান্নামবাসীদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য দুই আয়াতে জাহান্নামবাসীদের একটি বিশেষ শ্রেণি অর্থাৎ মুশরিকদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী সব মানুষকে হাজির করবেন। তারপর মুশরিকদের বলা হবে, তোমরা ও তোমাদের শরিকরা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো। তোমরা মুমিনদের থেকে পৃথক হয়ে যাও। যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন এই দুই শ্রেণীর লোক পৃথক হয়ে যাবে। এক আয়াতে আল্লাহ বলেন, “(সেদিন বলা হবে) হে অপরাধীরা! তোমরা আজ (কিয়ামতের দিন) পৃথক হয়ে যাও।” (সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৫৯)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “যেদিন কিয়ামত হবে সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে।” (সুরা : রুম, আয়াত : ১৪) এরপর মুশরিকদের সঙ্গে তাদের কল্পিত উপাস্যদের যে সম্পর্ক ছিল তা ছিন্ন করে দেওয়া হবে। মূর্তিগুলো বলে উঠবে, তোমরা তো আমাদের উপাসনা করতে না! এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। কারণ আমরা ছিলাম চেতনা ও অনুভ‚তিহীন। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট।
ইসলামের দৃষ্টিতে শিরক সবচেয়ে বড় অপরাধ
পৃথিবীতে যত পাপ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় পাপ হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। শিরকের চেয়ে জঘন্য আর কোনো পাপ নেই। যে আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া আমাদের একটি মুহূর্তও কাটে না, কাউকে তাঁর সমতুল্য সাব্যস্ত করার চেয়ে বড় অপরাধ আর কী হতে পারে? আল্লাহতাআলা ইরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করা ক্ষমা করেন না। এটা ছাড়া অন্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন।” (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪৮)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, অন্যায় তিন প্রকার। এক প্রকার অন্যায় আল্লাহ ক্ষমা করেন না। আরেক প্রকার অন্যায় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। আরেক প্রকার অন্যায়ের ব্যাপারে আল্লাহ কিছুতেই ছাড় দেন না। যে অন্যায় আল্লাহ ক্ষমা করেন না তা হলো শিরক। যে অন্যায় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন তা হলো বান্দা ও প্রভুর মধ্যকার বিষয়ে বান্দার করা অপরাধ। পক্ষান্তরে যে অন্যায়ের ব্যাপারে আল্লাহ কোনো ছাড় দেন না তা হলো এক বান্দা কর্তৃক অন্য বান্দার প্রতি অবিচার। এ অপরাধের জন্য আল্লাহ একজনের পক্ষ থেকে অন্যজনের কাছ থেকে প্রতিশোধ নেবেন। হাদিসে কুদসিতে রয়েছে, আল্লাহতাআলা বলেন, হে আমার বান্দা! যদি তুমি পৃথিবীর ওজনের সমতুল্য পাপ নিয়ে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করো, কিন্তু শিরকের মতো অপরাধ না নিয়ে আসো, তবে আমি পৃথিবীর ওজনের সমতুল্য ক্ষমা নিয়ে তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করব। (আহমদ, ইবনে কাছির)