সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

বৈষয়িক উন্নতি লাভ করে অহংকার করা ইসলামে নিষিদ্ধ

AmaderIslam.COM
মে ২১, ২০১৭
news-image

পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, (মুমিনদের) বলে দাও, তারা যেন কেবল আল্লাহর অনুগ্রহ (ইমান) ও দয়াতেই (কুরআন) আনন্দিত হয়। (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৫৮ (প্রথমাংশ))
তাফসির : আগের আয়াতে কোরআনের চারটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, এই বৈশিষ্ট্যম-িত কুরআনের জ্ঞান যে লাভ করেছে, কুরআন অনুসারে যে নিজের জীবন পরিচালিত করতে পেরেছে, সে-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ। পৃথিবীতে যত সম্পদ আছে, ইমান ও কুরআন সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এই আয়াতে আল্লাহর ‘ফজল’ ও ‘রহমত’ নিয়ে আনন্দিত হতে বলা হয়েছে। ‘ফজল’ ও ‘রহমত’ থেকে উদ্দেশ্য কীÑএর ব্যাখ্যায় একাধিক মতামত পাওয়া যায়। হজরত আনাস (রা.) সূত্রে এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর ‘ফজল’-এর মর্ম হলো কুরআন। আর আল্লাহর ‘রহমত’-এর মর্মার্থ হলো কুরআনের জ্ঞানের অধিকারী হওয়া এবং কুরআন মোতাবেক জীবন যাপন করা। (তাফসিরে রুহুল মাআনি)
হজরত হাসান বসরি, জাহহাক, কাতাদা ও মুজাহিদ (রহ.)সহ বেশির ভাগ তাফসিরবিদের মতে, আল্লাহর ‘ফজল’ হলো ইমান। আর আল্লাহর ‘রহমত’ হলো কুরআন। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা করুণা করেই মানুষকে ইমান দান করেছেন, আর তিনি দয়া করেই কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। (তাফসিরে মুনির) আয়াতে ইমান ও কুরআন পেয়ে আনন্দিত হতে বলা হয়েছে। তাই অপার্থিব বিষয়ে আনন্দিত হওয়া বৈধ। ইমান ও কুরআনের জ্ঞান পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করা বৈধ। অন্যদিকে বৈষয়িক উন্নতি লাভ করে অহংকার করা, আনন্দে আত্মহারা হওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ। পার্থিব যেকোনো অর্জনেও মানুষের উচিত আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা।