মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১১ আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,৫ মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

রমজানের আগের প্রস্তুতি

AmaderIslam.COM
মে ২১, ২০১৭
news-image

ইসলাম ডেস্ক : রহমত বরকত মাগফেরাতের মাস রমজান। আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ এক নেয়ামত স্বরূপ বান্দার জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার এই মাহে রমজান। আর কিছুদিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাসের রোজা। এ মাসেই মানুষ রোজা পালন ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জনে মশগুল থাকবে।
মুসলিম উম্মাহ দৈনন্দিন জীবনের আত্মকেন্দ্রীক যাবতীয় গুণাবলী অর্জন ও আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করতে দিনের বেলায় মাসব্যাপী রমজানের রোজা পালন এবং রাতে নামাজ ও আল্লাহ স্মরণে নিয়োজিত থাকে।
রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষ শারীরিক ও আত্মিকভাবে পূতঃপবিত্র হয়ে ওঠে। তাই রমজানের আগেই মুসলিম উম্মাহকে চারিত্রিক ও নৈতিক উৎকর্ষ সাধনে প্রস্তুতি নেয়া জরুরি।
কুরআন নাজিলের মাস রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্যের আগমণী বার্তা মানুষের মাঝে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, সভা-সমাবেশ তথা মসজিদের জুমআর বয়ানের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়াও ঈমানি দায়িত্ব।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস পাওয়ার আশায় দুই মাস আগে অর্থাৎ রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন এবং এভাবে দোয়া করতেন যে, ‘হে আল্লাহ! আপনি রজব ও শাবান মাসে আমাদের বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে রমজানে পৌঁছে দিন।’
প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণে শাবান মাসের বেশি বেশি রোজা রাখতেন। অন্যদেরকেও রোজা রেখে নিজেদের রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
রমজান মাস যেহেতু মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত বরকত এবং নাজাতের মাস। তাই রমাজনের আগেই দুনিয়ার যাবতীয় খারাবি থেকে নিজেকে তথা সমাজকে মুক্ত রাখা; রহমত বরকত মাগফেরাত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা একান্ত জরুরি।
রমজানের প্রস্তুতিতে রোজার আগেই পেছনের কাজা নামাজ আদায় করে নেয়া। আগের ভাংতি রোজা থাকলে তা আদায় করে নেয়া এবং রমজানের ইবাদত-বন্দেগির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পরিবারের যাবতীয় কাজসমূহকে গুছিয়ে নেয়াও জরুরি।
যারা ব্যবসা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত রমজান মাসে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি না করে সবার জন্য সহনশীল হওয়াও জরুরি। কেননা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের রমজানের দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি করা রোজাদারের হক নষ্ট করার শামিল।
যারা তারাবিহ নামাজ খতমে কুরআনের মাধ্যমে আদায় করবেন; তাদেরকেও রমজানের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। যেহেতু রোজার পর পরই ঈদ; তাই রমজানের পূর্বেই ঈদের কেনা-কাটারে কাজ সম্পন্ন করা ফেলা উত্তম। ফলে রমজানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেনা-কাটায় সময় নষ্ট হবে না।
যারা ইজতেমায়িভাবে ইফতারের আয়োজন করবেন তারাও রমজানের আগেও বাজার সদাইয়ের কাজের ব্যাপারে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলা উচিত। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, যখন রমজান সমাগত তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র রমজানের ইবাদত-বন্দেগির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে কোমর বেঁধে লেগে যেতেন।