সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

সে তোমার পরিবারের কেউ নয়

AmaderIslam.COM
মে ২১, ২০১৭
news-image

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ: পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, তিনি (আল্লাহ) বললেন, হে নুহ! সে তোমার পরিবারের কেউ নয়। সে অসৎকর্মপরায়ণ। সুতরাং যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে আমাকে অনুরোধ করো না। আমি উপদেশ দিচ্ছি, তুমি যেন অজ্ঞদের শামিল না হও। (সুরা : হুদ, আয়াত : ৪৬)
তাফসির: আগের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছিল হজরত নুহ (আ.) তাঁর পুত্রকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হে আল্লাহ! আপনি আমার পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু আমার চতুর্থ পুত্র দেখছি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আপনি তাকে রক্ষা করুন। আলোচ্য আয়াতে এর জবাবে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে নুহ! এই ছেলে তোমার পরিবারের এমন সদস্য নয়, যাদের রক্ষার ব্যাপারে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আমি তো কেবল তাদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যারা ইমানদার ও সৎকর্মপরায়ণ। তোমার ছেলে বেইমান ও অসৎকর্মপরায়ণ। ইমান না আনার কারণে সে তোমার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পারিবারিক বৃত্ত থেকে বেরিয়ে গেছে।
আল্লামা ওহবা জুহাইলি (রহ.) লিখেছেন, সে তোমার পরিবারের কেউ নয় Ñকথাটা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। তাফসিরবিদদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো, এর প্রকৃত অর্থÑসে তোমার ধর্মীয় পরিবারভুক্ত নয়। এখানে ‘ধর্মীয়’ শব্দটি উহ্য আছে। অর্থাৎ সে তোমার রক্ত-সম্পর্কীয় পরিবারের একজন সদস্য হতে পারে। কিন্তু তোমার নৈতিক, আধ্যাত্মিক পরিবারের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। আর আজ মহাপ্রলয়ের মাধ্যমে যে বিরোধের মীমাংসা হচ্ছে, সেটি বংশগত বা জাতিগত কোনো বিরোধ নয়। এক বংশের লোকদের রক্ষা করা হবে, অন্য বংশের লোকদের ধ্বংস করা হবেÑব্যাপারটি এমন নয়। বরং এটি হচ্ছে ইমান ও কুফর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপার। এখানে কেবল তাদের রক্ষা করা হবে, যারা সৎকর্মপরায়ণ। আর যাদের নৈতিকতা ও চরিত্র বিকৃত হয়ে গেছে, আজ তাদের খতম করে দেওয়া হবে। সুতরাং প্রকৃত অবস্থা না জেনে আমার কাছে কোনো আবেদন করা উচিত নয়। ভবিষ্যতে অজ্ঞসুলভ কাজ না করার জন্য আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি।