মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১১ আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,৫ মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

সৌদি আরবের সাথে ৩৮ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি করল যুক্তরাষ্ট্র

AmaderIslam.COM
মে ২১, ২০১৭
news-image

রাশিদ রিয়াজ: যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে ৩৮০ বিলিয়ন ডলার চুক্তি করার পর দেশটি সফর সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরবে তার সফরের প্রথম দিনটি ছিল অসাধারণ। দুটি দেশের মধ্যে চুক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল একটি অস্ত্র চুক্তি এবং হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় একক অস্ত্র চুক্তি।

ৎআরব নিউজ বলছে দুটি দেশ ৩৮০ বিলিয়ন ডলারের যে চুক্তি করেছে সে সম্পর্কে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের বলেছেন, ট্রাম্পের এ সফর আরব বিশ্বে একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’। ১১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র চুক্তিটি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লকইড মার্টিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এবং চুক্তি অনুয়ায়ী তারা দেড়’শ ব্লাক হক হেলিকপ্টার তৈরি করবে। লকহিডের সিইও ম্যারিলিন এ হিউসন বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে এধরনের চুক্তি করতে পেরে লকহিড গর্বিত।

এছাড়া সৌদি আরামকোর মালিকানায় মোটিভা এন্টারপ্রাইস ১২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পাশাপাশি ২০২৩ সাল নাগাদ আরো ১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এসময়ের মধ্যে আড়াই থেকে ১২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ঘটবে সৌদি আরবে।
সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ ৪০ টি মুসলিম দেশের নেতাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবে পৌঁছানোর পরই তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন বাদশাহ সালমান। এরপর তিনি ট্রাম্পের সাথে একই গাড়িতে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন এবং দিনের বেশিরভাগ সময় তার সাথেই কাটান।

সফরের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদিদের মধ্যে যে ৩৮ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি।
অস্ত্র চুক্তির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, এই চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে সৌদিরা তাদের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী, ইরানের হুমকি মোকাবেলা করতে পারে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সহযোগিতা সৌদি আরব এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে নিরাপত্তা দেবে, বিশেষ করে ইরানের ক্ষতিকর প্রভাবের মুখে এবং ইরান সম্পর্কিত যে হুমকি সৌদি আরবের সীমান্তের চারিদিকে অবস্থান করছে সেই বিষয়ে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্র এবং আরব ইসলামী দেশগুলোর সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প আজ রিয়াদে আরব ইসলামিক আমেরিকান সম্মেলনে শান্তিপূর্ণ ইসলামের আশাবাদ বিষয়ে একটি বক্তব্য দেবেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়ে বিতর্কিত হয়েছিলেন। ক্ষমতাগ্রহণের পর তিনি সাতটি মুসলিম প্রধান দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর সেটি আদালত আটকে দিয়েছিল। ক্ষমতাগ্রহণের পর এটিই মি. ট্রাম্পের প্রথম বিদেশ সফর।
এই সফরে তার সাথে ফার্স্ট লেডি মেলেনিয়া ট্রাম্প ছাড়াও রয়েছেন তার মেয়ে ইভাঙ্কা, জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা। সৌদি আরব সফর শেষে ইসরায়েল, ফিলিস্তিনী এলাকা, ব্রাসেলস, ভ্যাটিকান এবং সিসিলি সফর করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।