সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

আজকের তারাবিতে যা থাকছে পর্ব-২

AmaderIslam.COM
মে ২৮, ২০১৭
news-image

ওমর শাহ : আজ দ্বিতীয় তারাবিতে সূরা বাকারার ২৫তম রুকুর শেষার্ধ থেকে সূরার শেষ রুকু পর্যন্ত, ২০৪ থেকে ২৮৬ নম্বর আয়াত পড়া হবে। সঙ্গে সূরা আলে ইমরানের প্রথম রুকু থেকে নবম রুকুর পুরো অংশ, ১ থেকে ৯১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে দেড় পারা থেকে শুরু করে তিন পারার পুরো অংশ। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো।

২. সূরা বাকারা : (২০৪-২৮৬)
২৫ তম রুকুর শেষার্ধে, ২০৪ থেকে ২১০ নম্বর আয়াতে মুনাফিক-কাফের ও মুমিনের আচার-বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা তুলে ধরা হয়েছে। ২৬ তম রুকু, ২১১ থেকে ২১৬ নম্বর আয়াতে মুমিনদের গুরুত্বপূর্ণ হেদায়েত করা হয়েছে। বনি ইসরাইলদের কথা উল্লেখ করে উম্মতে মুহাম্মাদিকে সতর্ক করা হয়েছে। সত্য অস্বীকার করা, দলে-উপদলে বিভক্ত হওয়া, আল্লাহর দ্বীনের সংগ্রামে ধৈর্যচ্যুত হওয়ার মতো বিষয় থেকে বিরত থাকার হেদায়েত রয়েছে এ রুকুতে। ২৭তম রুকু, ২১৭ থেকে ২১২ নম্বর আয়াতেও পবিত্র মাসে যুদ্ধের বিধান, মদ-জুয়ার অপকারিতা, এতিমদের ভালো ব্যবস্থা করা এবং মুশরিক নারীদের বিয়ে না করার মতো গুরুত্বপূর্ণ হেদায়েত রয়েছে।
২৮ থেকে ৩১তম রুকুর বড় অংশ, ২২২ থেকে ২৪০ নম্বর আয়াতে নারীদের ঋতু¯্রাব, তালাক, ইদ্দত ও দেনমোহরের ব্যাপারে সবিস্তারে আলোচনা করা হয়েছে। ৩২ ও ৩৩তম রুকু, ২৪৩ থেকে ২৫৩ নম্বর আয়াতে মুসা (আ.) এর পর বনি ইসরাইলরা পরবর্তী নবীদের সঙ্গে জেহাদের প্রশ্নে কেমন পিঠটান আচরণ করেছিল, এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ৩৪ ও ৩৫তম রুকু, ২৫৪ থেকে ২৬০ নম্বর আয়াতে আল্লাহর মহত্বের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। উদহারণস্বরূপ ইবরাহিম (আ.) এর দুটি ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে। ৩৬ থেকে ৩৯তম রুকু পর্যন্ত, ২৬১ থেকে ২৮৩ নম্বর আয়াতে অর্থনৈতিক বিধান বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহর পথে ব্যয়ের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা, আল্লাহর পথে ব্যয় না করার পরিণাম, উশরের বিধান, দানের উপযুক্ত কারাÑ এসব বিধান আলোচনা করার পাশাপাশি সুদের ভয়াবহতা, সুদ হারাম হওয়ার ঘোষণা এবং সুদ ছেড়ে দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। আলোচনা করা হয়েছে ঋণের বিধান। ঋণ যেন লিখিত চুক্তির ভিত্তিতে হয়, এসব নির্দেশনা সবিস্তারে আলোচনা হয়েছে ২৮২ ও ২৮৩ নম্বর আয়াতে।
৪০তম তথা শেষ রুকু, ২৮৪ থেকে ২৮৬ আয়াতে উপসংহারস্বরূপ ঈমানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বান্দার জন্য আল্লাহর দয়া ও মেহেরবানি উল্লেখ করা হয়েছে শেষের দুই আয়াতে।

৩. সূরা আলে ইমরান : (১-৯১)
মদিনায় অবতীর্ণ সূরা আলে ইমরান ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী পবিত্র কোরআনের তিন নম্বর সূরা। এর আয়াতসংখ্যা ২০০ এবং রুকু সংখ্যা ২০। আজ পঠিত হবে নবম রুকু পর্যন্ত।
প্রথম রুকু, ১ থেকে ৯ নম্বর আয়াত পর্যন্ত ভূমিকাস্বরূপ পবিত্র কোরানের মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়েছে। এ কোরআন যে পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যায়নকারী এবং এটিই সত্য ও মিথ্যার মাঝে প্রকৃত পার্থক্যকারী, সে কথা বলা হয়েছে। এর আয়াতগুলোর ওপর বিশ্বাসীরা আমল করে এবং অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করে। আর বক্র মনের মানুষ এতে জটিলতা খোঁজে।
দ্বিতীয় রুকু, ১০ থেকে ১৯ নম্বর আয়াতে সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য জাহান্নামের ভয়াবহ আজাবের কথা বলা হয়েছে। পার্থিব জীবনের অসারতা ও মোহগ্রস্ততার হেতু কীÑ এ প্রশ্নের উত্তর রয়েছে ১৪ নম্বর আয়াতে। পরবর্তী অংশে ঈমান ও দাওয়াতের বিষয়ে সংক্ষেপ, তবে মৌলিক আলোচনা করা হয়েছে।
তৃতীয় রুকু, ২১ থেকে ৩০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা জ্ঞান অনুযায়ী আমল করেনি, সত্য লুকিয়ে রেখেছিল, তাদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, ক্ষমতা ও সম্মানের মালিক আল্লাহ। তিনি যাকে ইচ্ছা এসব দান করেন, আবার যার থেকে ইচ্ছা এসব ছিনিয়ে নেন।

একান্ত বিপদে পড়লে শুধু মুখে ঈমানবিরোধী কথা বলা যাবেÑ এ অনুমতিও দেয়া হয়েছে মুসলমানদের। চতুর্থ রুকু থেকে ষষ্ঠ রুকুর শেষ পর্যন্ত, ৩০ থেকে ৬২ নম্বর আয়াতে ইমরানের স্ত্রী, মরিয়ম (আ.) ও ঈসা (আ.) এর ঘটনা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সপ্তম থেকে নবম রুকু, ৬২ থেকে ৯১ নম্বর আয়াতে আহলে কিতাবদের সঙ্গে মুসলমানদের আচরণ ও দাওয়াতের পন্থা কেমন হবে, আহলে কিতাবদের ব্যাপারে ইসলাম ও মুসলমানদের দৃষ্টিভঙ্গি কী ধরনের হবেÑ এসব বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।