সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

আজ রহমতের ফল্গুধারা

AmaderIslam.COM
মে ২৮, ২০১৭
news-image

হুমায়ুন আইয়ুব : আকাশের চাঁদে আজ জোছনার হাসি। শুরু হলো মোবারক মাহে রমজান। রহমতের বৃষ্টিধারা। অবারিত রহমতের ফগ্লুধারা। বহু প্রতীক্ষার মাস রমজান। বয়ে চলা মুমিনের জীবনে অবারিত রহমত, বরকত, নাজাতের মাস। আল্লাহর সঙ্গে প্রেমের সেতুবন্ধনের মাস। সকল চাওয়া-পাওয়া, ক্ষমা-মুক্তি, ইবাদত-বন্দেগি ও নৈকট্য লাভের মাস। এ মাসে মুমিনের ইমানি বাগানে রহমতের ফুল ফোটে। সজীব হয় ইমানের চারা। সিয়াম-সাধনা ও ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় রমজান।
ইসলামের পঞ্চভিত্তির তৃতীয় ভিত্তি রোজা। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমান নর-নারীর প্রতি মাহে রমজানের রোজা পালন ফরজ। একজন মুসলিমের জন্য নামাজের মতোই ফরজ রমজান মাসের রোজা পালন করা। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা তোমাদের প্রতি আমি মাহে রমজানের রোজাকে ফরজ করেছি যেমন ফরজ করেছিলাম তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের প্রতি। আশা করা যায়, তোমরা তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করতে পারবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত-১৮৩)
এভাবেই পবিত্র কুরআনে রমজান মাসের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

আদর্শ সমাজ নির্মাণে রমজানের ভূমিকা অন্যতম। রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে একজন মানুষ হয়ে উঠে প্রকৃত মুমিন। স্বচ্ছ পানির মতো হয় তার আমলের দরিয়া। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় সকল পাপ-পঙ্কিলতা মুছে ফেলার। সকল প্রকার জুলুম অন্যায় থেকে বেঁচে থাকার জাগরণ উঠে তার দেহ-মনে। আত্মশুদ্ধির সিঁড়ি বেয়ে উঠে বিপ্লবের পতাকা। এ ধরনের আবেগ অনুভূতির মাধ্যমেই রমজানের মাহাত্ম প্রকাশ পায়। ব্যক্তি ও সমাজ তাদের সম্মান ফিরে পায়। যদি মাহে রমজানে পুণ্যের বদলে পাপ ও বক্রতা কারও কারও জীবনে বেড়ে যায়, তবে এটা নিশ্চয়ই একটি আত্মিক পরাজয়, এটা নিশ্চয়ই শয়তানের ক্রীড়া, যার বিরূপ প্রভাব ব্যক্তি ও সমাজের উপর পড়তে বাধ্য।

এ মাসে বান্দা পার্থিব সকল চাহিদা বিসর্জন দিয়ে আল্লাহর দয়া ও রহমত লাভ করবে, অতীতের সকল পাপাচার থেকে ক্ষমা চেয়ে নতুনভাবে ইমানি জীবনের উত্তাপ গ্রহণ করবে, তাকওয়ার অনুশীলনের মাধ্যমে পুরো বছরের ইবাদত ও আনুগত্যের শক্তি সঞ্চয় করবে, চিন্তা-চেতনা ও কর্ম-সাধনায় আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে সমর্পিত করবে এই হচ্ছে মুমিনের মাহে রমজান।