সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

রোজা ও ইফতারের নিয়ত

AmaderIslam.COM
মে ২৮, ২০১৭
news-image

ওমর শাহ : আজ সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে পবিত্র রমজান মাসের রোজা শুরু করবেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। রোজা আল্লাহ তায়ালার আরোপিক এক ফরজ বিধান। ইচ্ছাকৃত রোজা ভঙ্গ করা মহাপাপ। পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি। তাই আল্লাহর দরবারের কবুল হওয়ার জন্য কিছু বিধি নিষেধ মেনেই রোজা রাখতে হবে। রোজা শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত রোজার নিয়ত করা। কারও নিয়ত না থাকলে শুধু উপবাসের মাধ্যমেই রোজা পালন হবে না। অন্তরের নিয়তই যথেষ্ট। তবে রাসুল সা. এর শিখিত পদ্ধতিতে নিয়ত করা উত্তম।

জেনে নিন রোজা রাখার নিয়ত

রোজার নিয়ত
বাংলায় উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আছুমা গদাম মিন শাহরি রমাদ্বানাল মুবারকি ফারদ্বল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাক্বব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আংতাস সামীউল আলীম।
অর্থ: আয় আল্লাহ পাক! আপনার সন্তুষ্টির জন্য আগামীকালের রমাদ্বান শরীফ-এর ফরয রোযা রাখার নিয়ত করছি। আমার তরফ থেকে আপনি তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাত।
মাসআলা: কেউ যদি ছুবহি ছাদিক্বের পূর্বে নিয়ত করতে ভুলে যায় তাহলে তাকে দ্বিপ্রহরের পূর্বে নিয়ত করতে হবে।

ইফতার করার নিয়ত

বাংলায় উচ্চারণ: (আল্লাহুম্মা সুমতু লাকা, ওয়া তাওআক্কালতু আ‘লা রিঝক্বিকা, ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রহিমীন)
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং আপনারই দেয়া রিযিক্ব দ্বারা ইফতার করছি।

ইফতার এর সুন্নত আমলসমূহ
খুরমা বা খেজুর দ্বারা ইফতার শুরু করা সুন্নত। আমাদের নবীজি খুরমা বা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। ওয়াক্ত হওয়া অর্থাৎ আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা সুন্নত। হাদীসে কুদসী শরীফ এ রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: “আমার বান্দাদের মধ্যে আমার নিকট অধিকতর প্রিয় ওই ব্যক্তিরাই যারা তাড়াতাড়ি ইফতার করে অর্থাৎ সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করে।” কিন্তু সময় হয়নি এমন অবস্থায় দ্রুত পানাহার করলে ক্বাযা-কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়ে যাবে। তাই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ইফতার করার পূর্বে তিনবার দুরূদ শরীফ পাঠ করতে হবে।
কোন রোযাদারদের ইফতার করানো। এটি একটি অত্যধিক ফজিলতপূর্ণ কাজ।

বি: দ্র: সকলকেই সাহরীর ও ইফতার-এর সময়ের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। যেনো কোনো অবস্থাতেই সময় কম বা বেশি না হয়। আর তাই অনেক ব্যক্তিবর্গ মনে করেন সেজন্য সাবধানতার নিমিত্তে সাহরি এর সময় থেকে ৫ মিনিট কমিয়ে ও ইফতারি এর সময় থেকে ১/২ মিনিট বাড়িয়ে সাহরি ও ইফতার করা উচিত।