শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ৪ আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,১ সফর, ১৪৪২ হিজরী

কেউ গালি-গালাজ করলে কী জবাব দেবেন রোজাদার?

AmaderIslam.COM
জুন ১২, ২০১৮
news-image

আমিন মুনশি: ঝগড়া-বিবাদ, গালি-গালাজ থেকে বিরত থাকা রোজার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। রোজাহীন অবস্থায়ও তা নিষিদ্ধ, আর রোজা অবস্থায় আরও মারাত্মক।

সহীহ ইবনে খুযাইমার বর্ণনায় সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের কেউ রোজা রাখলে সে যেন অশ্লীল কথা ও মূর্খতা পরিহার করে। যদি কেউ তাকে গালমন্দ করে কিংবা তার সঙ্গে ঝগড়া-মারামারিতে লিপ্ত হয়, সে যেন বলে- আমি রোজাদার।’

অপর বর্ণনায় এসেছে, ‘সিয়াম হলো (জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী) ঢালস্বরূপ যতক্ষণ না তাকে ভেঙ্গে ফেলা হয়।’ সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করলেন, কি করে তা ভেঙ্গে ফেলা হয়? তিনি বললেন, মিথ্যা কিংবা গালমন্দের মাধ্যমে।’

সুতরাং রোজাদার ব্যক্তির জন্য শোভনীয় হবেনা পরিবারের ছোট-বড় কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা; বরং সবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা উচিত। পরিচিত-অপরিচিত যে কোনো লোকের প্রতি কটূবাক্য, জুলুম, নির্যাতন, গালিগালাজ ইত্যাদিতে লিপ্ত হলে সে রোজা তাকে জাহান্নাম হতে রক্ষা করবে না। প্রত্যেক রোজাদার যদি রোজার এই গুরুত্বপূর্ণ বিধান (ঝগড়া বিবাদ পরিহার) মেনে চলেন, তবে সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠিত হবে, যেমন হয়েছিল হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও খোলাফায়ে রাশেদার যুগে।

তাই রোজা অবস্থায় কেউ গালি দিলেও তার জবাবে গালি দেয়া যাবে না। কেউ মারামারি কিংবা ঝগড়া-বিবাদ করতে চাইলেও তা এড়িয়ে চলতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে আমাদের এমন নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ কোনদিন রোজা অবস্থায় সকালে উপনীত হয় তখন যেন সে অশ্লীল কাজ ও জাহেলী আচরণ না করে। এমনকি কেউ যদি গালিগালাজ করে কিংবা ঝগড়া-বিবাদ করতে উদ্যত হয় তখন সে যেন বলে আমি রোজাদার। (মুসলিম)

রোজা অবস্থায় পাপ কাজ করা তো অনেক দূরের কথা অনর্থক কথা ও কাজে লিপ্ত হওয়াও কোন মুসলমানের জন্য উচিত নয়। পবিত্র কুরআনের সুরা মু’মিনুনে বর্ণিত সফলকাম মু’মিনের অন্যতম গুণ হচ্ছে অনর্থক কথা ও কাজ হতে বিমূখ থাকা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হচ্ছে অনর্থক কথা ও কাজ পরিত্যাগ করা। (তিরমিজি)

আমাদের প্রতিটি কথাবার্তা ফেরেশতা লিপিবদ্ধ করে রাখেন। মুখ থেকে অনর্থক কোন কথা বের হলে এজন্য আল্লাহ তায়ালার দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধ করার জন্য অতন্দ্র প্রহরী ফেরেশতা নিয়োজিত আছে। (সূরা কাফ: ১৮) তাই রোজা অবস্থায় অনর্থক কথা ও কাজ পরিত্যাগ করে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির ও কুরআন তিলাওয়াত এবং অন্যান্য নেক আমল করা উচিত।

রমজান মাসকে যদি একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তবে রোজা হলো ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রশিক্ষক।
দীর্ঘ এক মাস সঠিক উপায়ে সিয়াম সাধনা করলে রোজাদারের মধ্যে যে সংযম সৃষ্টি হয় তা অন্য কোনোভাবে সম্ভব হয় না। এ জন্য আত্মগঠনের সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো- রোজার সকল বিধি-বিধান মেনে চলা।