মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ইং ৩ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,১০ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

স্বাধীনতাবিরোধী দল নিষিদ্ধের পক্ষে ইসলামী আন্দোলন : ইউনুছ আহমাদ

AmaderIslam.COM
জুলাই ১, ২০১৮
news-image

আমাদের ইসলাম: স্বাধীনতার বিরুদ্ধে থাকা রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধের দাবিতে একমত চরমোনাইয়ের পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন। সাম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়ে আলোচিত দলটির মহাসচিব ইউনুছ আহমাদ এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেছেন।

[গত ডিসেম্বরে রংপুর সিটি করপোরেশনের পর মে মাসে খুলনা এবং সব শেষ গত ২৬ জুন গাজীপুরে ধর্মভিত্তিক দল ইসলামী আন্দোলনের ভোটের অংক চমক জাগানো।

মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে না পারলেও আলোচিত প্রতিটি নির্বাচনেই তারা ভোট পেয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। ফলাফল প্রকাশের পর ভোটের অংক বহুজনের কাছেই ছিল বিস্ময় জাগানিয়া। দেশের যে এলাকাতেই ভোট হচ্ছে সেখানেই তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনসমর্থনে এটা স্পষ্ট যে আলোচনার বাইরে থাকা দলটি জায়গা করে দিচ্ছে মানুষের মধ্যে।

বরিশালের চরমোনাইয়ের পীরের দল হিসেবে পরিচিত ইসলামী আন্দোলন। দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত পীর মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম। দলটির যাত্রা শুরু ১৯৮৭ সালে।

বর্তমানে দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফজলুল করীমের ছেলে সৈয়দ রেজাউল করিম। বিকশিত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ধর্মীয় গোষ্ঠীর বাইরে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীকে নিয়েই কাজ করছে তারা।

দলটির মহাসচিব ইউনুছ আহমাদ জানিয়েছেন তাদের বর্তমান কর্মসূচি, ভবিষ্যত পরিকল্পনা। আশা করছেন, আগামী নির্বাচনগুলোতে তারা আরও ভালো করবেন। বিশেষ করে আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট মহানগরে যে ভোট হতে যাচ্ছে, সেখানে বরিশালে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারবেন তারা]

ধর্মভিত্তিক সব দলের ভোট কমার মধ্যে আপনাদের বাড়ছে, তাদের সকলেই কি আপনাদের পীরের সমর্থক?

যারা আমাদের ভোট দিচ্ছে তারা সবাই আমার পীরের সমর্থক নয়। আমাদের আদর্শের প্রশ্নে আমাদের নেতা কর্মী সবাই অটল, দৃঢ় এ জন্য সাধারণ মানুষের ভোট বাড়ছে।

আপনাদের ভোট বাড়ছে সত্য, কিন্তু এখনও জামানত রক্ষার মতো ভোট পাচ্ছেন না, ফলে এখনও আপনাদেরকে সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। অর্থাৎ আপনারা প্রশাসন চালাতে পারবেন এমনটা মনে করছে না জনতা।

যে পদ্ধতিতে আমাদের দেশে নির্বাচন হচ্ছে, তাতে আমাদের জনসমর্থনের কোনো ধারণা জাতি এখন পাচ্ছে না। কারণ, নির্বাচনের দিন অনিয়ম হয়, ভোট ডাকাতি হয়। বাস্তবে আমাদের সমর্থন আরও বেশি বাড়ছে। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো তাহলে শুধু জামানত রক্ষাই নয়, আশাতীত একটা ধারণা জাতির কাছে মেসেজ দিতে পারতাম।

আপনারা তো নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, খুলনা, গাজীপুরে বেশ ভালো ভোট পেয়েছেন। সামনে যে তিন মহানগরে ভোট হচ্ছে, তার মধ্যে কোনটিতে সবচেয়ে ভালো করার প্রত্যাশা করছেন?

বরিশালে আমাদের ভালো করার সম্ভাবনা আছে। চরমোনাই তো সেখানেই অবস্থিত। ফলে সেখানে আমাদের ভীতও অনেক শক্তিশালী। সিলেটেও আমাদের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক ভালো আছে।

কালোটাকা, পেশীশক্তির বিষয়ে মানুষ এখন সচেতন, যেহেতু আমরা কালোটাকা, বা পেশীশক্তির ব্যবহার করি না সুতরাং জনগণ আমাদের সমর্থন করবে। জনগণ যদি ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়, ভোট যদি সুষ্ঠু হয়, তবে আমাদের একটা ভালো সাড়া পাব।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কঠোর সমালোচনা করেন আপনারা। কিন্তু তারা যেভাবে মানুষের মন জয় করতে পারছে, আপনার সেভাবে সফল হতে পারেন না কেন? 

আমি আগেও বলেছি তারা ক্ষমতার রাজনীতি করে আর আমরা করি আদর্শের রাজনীতি। ক্ষমতা ধরে রাখা, ক্ষমতায় যাওয়াই তাদের মুল উদ্দেশ্য। দেখা যায় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যত রকমের অন্যায় অপরাধ আছে করে। দলীয় যারা ক্যাডার থাকে তাদের উশৃঙ্খল বানানোর চেষ্ট করে। কালোটাকা পেশীশক্তির ব্যবহার এই দুই দলের কেউ কম করে নাই।

আর ভালো কাজ বিএনপিও কিছু ভালো কাজ করেছে, বর্তমান সরকার তো বেশ কিছু ভালো কাজ করেছে। দুর্নীতিগ্রস্ত দুই দলেই আছে, এর থেকে মুক্ত না হলে মানুষকে ধোঁকা দিতেই থাকবে।

কেবল ধর্মের কথা বলে ভোট কি পাওয়া যাবে? আপনারা সমাজ সংস্কারের কী করতে চান, সেই বিষয়গুলো সামনে আনছেন না কেন?

আমরা শুধু ধর্মীয় বিষয়গুলি চর্চা করি না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুধু পীর মুরীদীই নিয়ে আমরা চলি না, আমাদের বিশ্বাস আমাদের সংগঠন, আমাদের দল সার্বজনীন হতে হবে। সার্বজনীন করার লক্ষ্যে আমরা এই আন্দোলনের মূল সংগঠনের অনেকগুলো সহযোগী সংগঠন করেছি।

যেমন ছাত্রদের জন্য কাজ করার জন্য ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। স্কুল মাদ্রাসা কলেজে সব জায়গায় তাদের বিচরণ আছে। তাদের সব জায়গায় কমিটি আছে। কৃষক, শ্রমিক, আইনজীবীদের জন্য সংগঠন আছে। আরও আছে, মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ পরিষদ আছে।

সমাজ সেবার দিকেও নজর দেওয়া হয়। অসহায় মানুষের পাশে আমরা আছি। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আমাদের কর্মকাণ্ড ছিল। উত্তরবঙ্গে বন্যার সময় আমরা কাজ করেছি। লক্ষ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে বণ্টন করেছি। হঠাৎ কোন অগ্নিকাণ্ড হলে আমরা সেখানে সহযোগিতা করি। অর্থাৎ দুর্গত এলাকায় অসহায় মানুষের পাশে আমরা দাড়াই, তাদের যতটুকু পারি সহযোগিতা করি।

সমাজ সংস্কারের জন্য দুইটা ব্যবস্থা, একটা হলো আত্মিক ব্যবস্থা। আরেকটা হলো আমাদের ওয়াজ মাহফিল। ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে সমাজের মাদকের মতো অনেক সমস্যার বিরুদ্ধে কথা বলি। এর ফলে নেশায় জড়িত অনেকে সুস্থ জীবনে ফিরে আসছে। এছাড়াও আমরা আঞ্চলিকভাবে বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করে থাকি। ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে যদি এতো লোক ভালো হয়ে যায়, তাহলে তাদের হাতে প্রশাসনের লাঠি আসলে অবশ্যই ভালো করবে।

ধর্মভিত্তিক দল তুরস্কে শক্তিশালী হয়েছে, কিন্তু তারা বাংলাদেশের আপনারা যে ধারায় রাজনীতি করেন সেভাবে করে না। আপনাদের রাজনীতি ধারা পাল্টানোর কোন পরিকল্পনা আছে কি না?

আমরা নির্বাচনমুখী শান্তিপূর্ণ একটি দল। আমরা সেভাবেই এগোতে চাই। সমাজের মাঝে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানুষকে দাওয়াত দেব, নির্বাচনের সময় নির্বাচন করব। তবে রাতারাতি আমাদের রাজনৈতিক ধারা পাল্টানোর কোন পরিকল্পনা নেই।

আগামী সংসদ নির্বাচনে কি জোটবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা আছে না কি একাই ভোট করবেন?

আমরা এখনও এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা করছি। আমাদের নীতি আদর্শের সাথে যদি কারো মিলে যায়, ইসলামী আদের্শর সাথে মিলে যায়। এখানে কোন আদর্শ কেনা বেচা হবে না, এগুলো মেনে নিয়ে আমাদের কাছে আসলে তাদেরকে আমরা স্বাগত জানাব। কিন্তু নির্বাচন করতে গিয়ে কেনাবেচা হওয়া, সেক্ষেত্রে আমরা কোন জোট করব না।

তার মানে আপনারা ২০১৪ সালের নির্বাচনে যোগ না দিলেও, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আসছেন?

না, আমাদের কাছে যদি স্পষ্ট হয় যে আগামী নির্বাচন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো হবে না, তবে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। তবে যদি সেই রকম আবার নির্বাচন হয় তবে আমরা নির্বাচনে আবারও অংশ নেব না। আমাদের কেন্দ্রীয় শূরা কমিটি আছে তারা সব যাচাই করবে। যদি ভালো মনে করি, তবে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

আমরা শতভাগ নির্বাচনমুখী দল, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে মনে করলেই আমরা নির্বাচনে অংশ নেব। আমরা নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি, পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী ভাবে কাজ করতে দেওয়ার কথাও বলে আসছি। আমাদের আন্দোলন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি দুটোই নিয়ে রাখছি।

আবার জোটের প্রসঙ্গে আসি। ২০০১ সালে তো জাতীয় পার্টির সঙ্গে আপনাদের জোট ফলপ্রসূ হয়নি, সেই জোট কেন ভাঙল? এর আগেও আপনারা জোট করেও সামনে এগিয়ে যেতে পারেননি। আপনারা ইসলামী ঐক্যজোটের অন্যতম উদ্যেক্তা ছিলেন। তার মানে জোটের রাজনীতিতে আপনারা সফল নন? 

দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্যের কারণে আমাদের এক সঙ্গে থাকা সম্ভব হয় না। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী হলো ইসলাম, দেশ জাতি, মানবতা। এটাই হলো রাজনীতি। সাময়িক একটা সুবিধা নিয়ে সরে যাওয়া এই চিন্তা আমরা লালন করি না।

আমাদের জোটে যারা ছিলেন তাদের অনেকে মনে করেছেন অন্য জোটে গেলে তাড়াতাড়ি একটা ভালো ফলাফল পাব, এটা চিন্তা করে অনেকে চলে গিয়েছিলেন। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীর সঙ্গে তাদের মিল না হওয়ায় অতি তাড়াতাড়ি তারা চলে গেছে।

যারা গেছে তারা যে খুব লাভবান হয়েছে তা আমি বলব না। আমরা নীতি আদর্শের জায়গায় অটল রয়েছি। যে কারণে আমাদের ভোট এখন বাড়ছে, আর যারা সুবিধা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন জায়গায় গেছে তাদের ভোট কমছে।

আর এরশাদের সাথে আমাদের জোট সামনে আগায়নি, কারণ তিনি ক্ষমতার রাজনীতি করেন, আদর্শের রাজনীতি আর ক্ষমতার রাজনীতি এক না। আমরা ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? 

এদেশে মানুষের ভোটের অধিকার খর্ব করার একটা পাঁয়তারা চলছে। আমাদের দেশের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের মানচিত্র পরিবর্তন হয়ে গেল, নামটাও পরিবর্তন হয়ে গেল। এর একটাই কারণ ছিল মানুষের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।

বার বার ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে যদি মানুষ ফুঁসে ওঠে, সেটা সরকারের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ জন্য এখন থেকেই সরকারকে সচেতন হওয়া দরকার। যদি সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তবে এদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

স্বাধীনতাবিরোধী দল হিসেবে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি আছে, এটা সমর্থন করেন কি না?

যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী না, স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে তাদের তো আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখতে পারি না। তাদের উচিত যদি স্বাধীনতা বিরোধী মন মানসিকতা থাকে তবে জাতীয়ভাবে ঘোষণা দিয়ে ফিরে আসা। আর তারা যদি তা না করে তবে দেশের মানুষ তাদের ইতিবাচক হিসেবে দেখবে না।

কোন দেশে যদি স্বাঘোষিত স্বাধীনতাবিরোধী হয়, তবে রাষ্ট্রীয়ভাবেই তাদের রাজনীতি করার কোন অধিকার থাকে না। যদি কেউ স্বাধীনতার বিরোধিতা করে, তবে তাদের নিষিদ্ধের দাবির সাথে আমরাও একমত।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে অন্যান্য অনেক দলের মতো আপনাদেরও অবস্থান স্পষ্ট না, অথচ ধর্মকে ব্যবহার করে তারা ৭১ সালে এই দেশের মানুষদের হত্যা, নির্যাতনে সহায়তা করেছে, আপনারা কেন প্রকাশ্যে জোরেশোরে এর বিচার চান না?

যুদ্ধাপরাধের দায়ে প্রকৃত দোষী যারা, এটা তদন্ত সাপেক্ষ্যে তাদের বিচার হওয়া উচিত, আমরাও তাদের বিচার চাই। সেটা আগেও বলেছি, এখনও বলছি। এমনকি সরকারের মধ্যেও যদি যুদ্ধাপরাধী থাকে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। তবে বাস্তবকে আড়াল করে যদি কোন বিচার হয় তবে সেটার বিরোধিতা আমাদের থাকবে, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার আমরা চাই।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সঙ্গে আপনাদের দলের কি কখনও কোন সম্পর্ক ছিল? থাকলে সেটা কী ধরনের ছিল?

আমাদের প্রতিষ্ঠালগ্নেই দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিল। ১৯৮৭ সালের ১৩ মার্চ শাপলা চত্ত্বরে একটা সমাবেশ ছিল, সেখানে তার আসার কথা ছিল। বুজুর্গ মুরুব্বিয়ানরা অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি আসেননি; ওমরার কথা বলে চলে গেলেন।

তার পরে থেকে ওনার ওপর অনেকের যে আস্থা ছিল, সেটা আর নাই। অনেক বুজুর্গদের ওনার প্রতি মন খারাপ, আমরাও তার বিষয়ে সতর্ক আছি।

জামায়াতের সম্পর্কে আপনাদের ঘোর আপত্তি আছে দীর্ঘ দিন ধরেই, এর কারণ কী?

আকিদাগত কারণে জামায়াত নিয়ে আমাদের ঘোর আপত্তি আছে। কেননা মওদুদী সাহেবের যে লেখনী, ওই সময় থেকেই আলেম ওলামারা অনেক আপত্তি তুলেছেন। তো ওই সময় এটা সংশোধন করে নিলে অনেক সহজ হতো। সংশোধনী যেহেতু আনেনি সেহেতু এ দেশের কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন আলেম ওলামা তাদেরকে স্বীকৃতি দেয়নি। এটা যদি আলেম ওলামাদের সাথে সমন্বয় হয়ে যায় যে, আমরা সংশোধন করে নিচ্ছি, তাহলে আমরা তাদেরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখব।

হেফাজতের প্রসঙ্গে আসি। ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের অংশ ছিলেন আপনারা। কী নিয়ে দ্বন্দ্বে আপনারা সেখান থেকে সরেছেন?

সবাইকে তো দায়ী করা যাবে না, ওখানে হয়তো অশুভ ইশারায় আমাদেরকে স্থান দেয়া হয়নি। আমরা চেষ্টা করেছিলাম তাদের সঙ্গে থাকার। তবে এটা নিয়ে ওই হেফাজতেরই অনেকে কষ্ট পেয়েছে। এটাতে জাতির কাছে ভালো কোন বার্তা যায়নি।

হেফাজত যেভাবে চিন্তা করছে, এই অবস্থানকে সমর্থন করেন কি না?

হেফাজত কিন্তু রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তারা নির্বাচন করে না। তবে যারা হেফাজতের সাথে আছে তাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন হেফাজত নামটা ব্যবহার করে কোন রাজনৈতিক ফয়দা হাসিল করতে না পারে।

এখন হেফাজতের অবস্থান অস্পষ্ট, তাদের কীভাবে আমরা সমর্থন করি? বিভিন্ন নির্বাচনে অনেক রকম কথা আসছে, যে হেফাজত ফ্যাক্টর হবে। হেফাজত যদি রাজনীতিতে না আসে তবে তাদের প্রতি সমর্থন থাকবে, আর যদি রাজনীতিতে আসে তবে তাদের প্রতি আমাদের সমর্থন থাকবে না।

শাপলা চত্ত্বরে যা হয়েছিল সেখানে কোন পক্ষের কী ভুল ছিল বলে মনে করেন?

শাপলা চত্বরে যারা এসে ছিল তারা অনেকেই অনভিজ্ঞ, এ সম্পর্কে কোন ধারণা রাখে না। রাজধানীতে সভা সমাবেশ মিছিল মিটিং করার ধারণা তাদের ছিল না। যারা ওলামায়ে কেরাম তার এ বিষয়গুলি না জানার কথা। সেখানে নেতিবাচক একটা কিছু হতে পারে সেটা চিন্তা করলে, এতা বড় একটা ঘটনা ঘটত না।

ধর্মভিত্তিক অন্য দলগুলোর নেতারা আপনাদের দোষারোপ করেন আপনারা গোপনে আওয়ামী লীগের সাথে যোগাযোগ করেন। এ অভিযোগের বিষয়ে কী বলবেন?

রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ থাকে, প্রতিপক্ষের নিকট থেকে অনেক ইতিবাচক কথা আসে, নেতিবাচক কথাও আসে। রাজনৈতিকভাবে যদি কেউ দেউলিয়া হয়ে পরে, তখন একটু দিশেহারা হয়ে পরে, তখন হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। যেহেতু ইসলামী আন্দোলন দিন দিন ভালো করছে, সে জন্য অনেকের মনোকষ্টের কারণ হতেই পারে। তবে আমাদের সাথে আওয়ামী লীগের কোনো ধরনের যোগাযোগ নাই। সূত্র: ঢাকাটাইমস