সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ২৮ কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ,৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

নারীদের নামের শেষে কেন খাতুন যোগ করা হয়?

AmaderIslam.COM
আগস্ট ১৭, ২০১৮
news-image

আমাদের ইসলাম: সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখা ইসলামের নির্দেশ। এখন অনেক শিশুর এমন নাম রাখা হয় যার কোন অর্থ নেই। শুধু প্রচলিত বলেই ক্ষ্যন্ত হন। কিন্তু ইসলামে নামের অনেক মাহাত্ম রয়েছে। এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে, হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিনে তোমাদের ডাকা হবে তোমাদের নামে এবং তোমাদের পিতার নামে। সুতরাং তোমাদের নামগুলো সুন্দর করে রাখ। -আবু দাউদ, বায়হাকী

নামের সাথে সাথে আমর নামের শুরুতে বা শেষে বিভিন্ন উপাধিও আমরা যুক্ত করি, সেগুলোও সুন্দর অর্থবহ হওয়া বাঞ্ছনীয়। আমাদের দেশে সাধারণত মেয়েদের নামের শেষে খাতুন যুক্ত করা হয়। কিন্তু কেন এ নাম যোগ করা হয় অনেকের তা জানা নেই। জেনে নিই কী কারণ।

বিখ্যাত আরবি অভিধান আল মুজামুল ওয়াসিতে এসেছে- খাতুন মূলত তুর্কি ভাষার শব্দ এর বহুবচন খাওয়াতিন, এটি তুর্কি শব্দ খান বা খাকান এর স্ত্রীলিঙ্গ। আর খান শব্দের অর্থ অভিজাত ব্যক্তি, শাসক ইত্যাদি।

বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে খান বা খাঁ একটি উপাধি যা বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। উৎপত্তিগত ভাবে মঙ্গোলীয় ও তুর্কী ভাষায় এর অর্থ সেনানায়ক, নেতা বা শাসক। খান বলতে গোত্রপতিও বোঝায়।

খাতুন এবং খানম হলো এর স্ত্রী বাচক রূপ। সে হিসেবে খাতুন মঙ্গোলীয় ও তুর্কীতে রাজার রানী সমপর্যায়ের শব্দ। খান এবং খাতুন হিসাবে ঘোষণার পরে এই উপাধি দ্বারা একজন খান-এর রাজরানী (স্ত্রী) খানের সমপর্যায়ের সম্মান পাওয়ার যোগ্য হন।

বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে খাতুন শব্দের অর্থ রয়েছে, গৃহিণী, অভিজাত মহিলা ইত্যাদি। আরবি নামকোষ আল মাউসুয়াতুল আলামিয়্যাতে ড. মাহমুদ আল আক্কাম বলেন, সেলজুক শাসনামলে খাতুন শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। তখনকার সেলজুক সুলতানদের স্ত্রীদের খাতুন নামে ডাকা হতো, যেমন খাতুনে সুলতান সোলায়মান।

তবে এর আগে ৭০০ হিজরির শুরুতে তুর্কিদের সাথে আরবদের মেলামেশা শুরু হলে আরবদের মাঝেও খাতুন শব্দটির ব্যবহার শুরু হয়। যেমন বিখ্যাত আব্বাসি খলিফা হারুনুর রশিদের স্ত্রীর নাম ছিল জুবাইদা খাতুন।

পরবর্তীতে কালের পরিক্রমায় খাতুন শব্দটি তুর্কিদের সূত্র ধরে ভারত উপমহাদেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে। মোগল শাসনামলে ফার্সি ভাষায় খাতুনের অনুপ্রবেশ ঘটে। তখন এই শব্দটি অভিজাত মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় উর্দু এবং বাংলা ভাষায় তুর্কি খাতুন শব্দটি ঢুকে পড়ে।

তবে এ খাতুন শব্দ নামের শেষে যুক্ত করার ব্যাপারে ইসলামের কোন বিধিনিষেধ নেই। কুয়েতের বিখ্যাত ইসলামী আইনের বিশ্বকোষ আল-মাউসুআ আলফিকহিয়া কুয়েতিয়া গ্রন্থে বলা হয়েছে- ইসলামে নাম রাখার মূলনীতি হচ্ছে- নবজাতকের যে কোনো নাম রাখা জায়েজ; যদি না শরীয়তে এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকে। -খ- ১১, পৃষ্ঠা- ৩৩১