রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ২৭ কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ,২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন তহবিলে সৌদি সহায়তা!

AmaderIslam.COM
অক্টোবর ১৮, ২০১৮
news-image

আমাদের ইসলাম : যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি গত ২ অক্টোবর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের সৌদি কন্স্যুলেটে প্রবেশের পর আর বের হননি। সৌদি আরব অবশ্য বলছে, খাশোগি কন্স্যুলেট ভবন থেকে বের হয়ে গেছেন। তবে তুরস্কের পক্ষ থেকে এর প্রমাণ চাওয়া হলে তা সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে রিয়াদ। তুরস্কের দাবি, তাদের তদন্তকারীদের হাতে নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে কন্স্যুলেট ভবনের ভেতরে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। গত সপ্তাহে তুরস্কে আসা ১৫ সদস্যের একটি সৌদি দল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ আঙ্কারার। এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) সৌদি আরব সফরে যান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও। ওইদিন রাতে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পম্পেও রিয়াদে রওনা করার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের তহবিলে সহায়তা প্রদান করেছে সৌদি আরব। সমালোচকরা মনে করছেন, খাশোগিকে নিয়ে উত্তেজনা চলার মধ্যে এ অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি সন্দেহজনক। তবে সে সন্দেহ নাকচ করে দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আইএস বিরোধী জোটের দূত ব্রেট ম্যাকগার্ক এক বিবৃতিতে বলেছেন, সৌদি আরবের এই অর্থ-প্রদানের বিষয়টি শরতের সময়সীমার মধ্যেই চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে তাদের আশা ছিল।’ তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে এই তহবিল স্থানান্তর একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ এবং এর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের কোনও সম্পর্ক নেই।’

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সখ্যের ব্যাপারটি কারও অজানা নয়। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই মিত্রের একটি হলো সৌদি আরব। রয়েছে অস্ত্রবাণিজ্যের স্বার্থও। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১১০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহের সুযোগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে । ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, বাণিজ্যের প্রশ্নকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়াতে চান না। ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সখ্যের খবরও বারবার আলোচনায় এসেছে। নিখোঁজ সাংবাদিক খাশোগিকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে তুলে ধরা একটি প্রতিবেদন সংক্রান্ত টুইট রিটুইট করেছেন ট্রাম্পপুত্র।

তাছাড়া এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সৌদি যুবরাজ এই ঘটনার কোনও কিছু জানার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন যুবরাজ তাকে বলেছেন, ‘এই ঘটনায় একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এরই মধ্যে শুরু করেছেন তিনি। আর আস্তে আস্তে তা বাড়ানো হবে।’ মঙ্গলবার সৌদি বাদশাহ এবং যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সৌদি আরব। খাশোগি জীবিত নাকি মৃত এমন প্রশ্নের উত্তরে পম্পেও বলেন, ‘তারা ওই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই না জানার কথা বলেছে’।

তবে মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সদস্য ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট খাশোগির ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটিক সদস্য ডেবিউ দিঙ্গেল বুধবার বলেন, আমাদের উত্তর দরকার, আমরা তাকে পাচ্ছি না।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত জামাল খাশোগি সৌদি সরকারের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার পরিকল্পনার বিরোধী তিনি। একসময় সংবাদপত্র আল ওয়াতানের সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন খাশোগি। কাজ করেছেন একটি সৌদি টেলিভিশন চ্যানেলেও। খাশোগি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করতেন।