রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ২৭ কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ,২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

নেশা ছেড়ে বুজুর্গ হওয়ার ঘটনা

AmaderIslam.COM
অক্টোবর ২১, ২০১৮
news-image

আমিন মুনশি : একজন বুজুর্গ ওলী ছিলেন। উনার নাম- হযরত বিশর হাফী (মৃত্যু- হিঃ২২৭)। তিনি প্রথম জীবনে ছিলেন একজন মদ্যপ। সারাদিন শরাবখানায় মাতাল হয়ে থাকতেন, আজেবাজে কাজ করতেন। একদিন তিনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ দেখলেন- মহান আল্লাহ পাকের কালাম অর্থাৎ ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখা একটি কাগজ মাটিতে পড়ে আছে।

ওটা দেখে তিনি ভাবলেন- সারা জীবনতো অনেক পাপ করেছি। মহান আল্লাহ পাকের কালাম, এটাতো অবশ্যই মাটিতে থাকা উচিত নয়। এটাকে তুলে নেয়া উচিত। কাগজটি তুলে নিলেন। তুলে নিয়ে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে আতর গোলাপ মেখে উনার সেই ঘরের উঁচু স্থানে রেখে দিলেন। এরপর তিনি আবার শরাবখানায় চলে গেলেন।

ওই এলাকায় একজন আল্লাহওয়ালা লোক ছিলেন। তিনি রাতে স্বপ্নে দেখলেন উনাকে স্বপ্নে বলা হচ্ছে, হে ব্যক্তি তুমি বিশরকে গিয়ে সংবাদ দাও, আমি তাকে কবুল করেছি। স্বপ্নটা দেখার পর উনার ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঘুম থেকে উঠে মনে মনে চিন্তা করলেন, স্বপ্নটা আমি ভুল দেখেছি। কারণ ওই ব্যক্তি নিশ্চয়ই ভাল লোক নয়। তিনি অজু করে দু’রাকাত নামায পড়ে আবার শুয়ে পড়লেন। একে একে তিনবার একই স্বপ্ন দেখলেন এবং শেষবার বলা হলো, তুমি তাড়াতাড়ি সংবাদ দাও, আর তা না হলে তোমার অসুবিধা হবে।

বুজুর্গ ব্যক্তি তাড়াতাড়ি সংবাদ দেয়ার জন্য উনার বাড়ীতে গেলেন। উনার বাড়ী থেকে বলা হলো, তিনি তো এখানে নেই, তিনি শরাবখানায়। সেই বুযুর্গ ব্যক্তি তিনি শরাবখানায় গিয়ে উনার যারা বন্ধু-বান্ধব ছিল তাদেরকে বললেন, কোথায় বিশর হাফী? সেই বযুর্গ ব্যক্তি বললেন উনার সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে পয়গাম এসেছে। তিনি দেখলেন বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মাতাল অবস্থায় রয়েছেন শরাব পান করে।

তিনি সেখানে গিয়ে বললেন, ‘হে বিশর হাফী! আপনার কাছে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ হতে পয়গাম এসেছে।’ তিনি মাতাল অবস্থায় বললেন, হে ব্যক্তি শান্তির পয়গাম না অশান্তির পয়গাম? বলা হলো, ‘তোমার জন্য শান্তির পয়গাম এসেছে।’ হযরত বিশর হাফী রহ. তিনি লাফিয়ে উঠে বললেন, ‘হে বন্ধুরা, আজ থেকে বিদায়। মহান আল্লাহ পাক আমাকে কবুল করে নিয়েছেন এবং সংবাদ প্রেরণ করেছেন। আমি আর এখানে থাকবনা।’

তিনি চলে গিয়ে সেই যামানার যারা বড় বড় মহান ওলী ছিলেন, উনাদের সোহবত গ্রহণ করলেন এবং পরবর্তীসময় তিনি বড় ওলীআল্লাহ হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! হাফী শব্দের অর্থ হলো- খালি পায়ে যে চলে অর্থাৎ জুতাবিহীন। তিনি খালি পায়ে চলতেন বাগদাদের রাস্তায় রাস্তায়। উনার প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি যতদিন জিন্দা ছিলেন, ততদিন পর্যন্ত বাগদাদের রাস্তার মধ্যে কোন পশু-পাখি সরাসরি ইস্তিঞ্জা করতো না!

একদিন এক পশুর মালিক দেখলেন, এক পশু রাস্তার মধ্যে ইস্তিঞ্জা করছে। তিনি বললেন- ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন।’ তিনি যখন একথা বললেন, তখন সঙ্গী-সাথীরা বললেন যে, ভাই কে মারা গেল তুমি যে একথা বললে? পশুর মালিক বললেন, দেখ নিশ্চয়ই কিছুক্ষণ আগে হযরত বিশর হাফী রহ. তিনি বিদায় নিয়েছেন। সংবাদ নিয়ে জানা গেল, সত্যি কিছুক্ষণ আগে হযরত বিশর হাফী রহ. তিনি বিদায় নিয়েছেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো- তুমি কি করে এটা বুঝলে? তিনি বললেন, আমি লক্ষ্য করছি আজ পর্যন্ত যতদিন পশু চরাই বাগদাদের রাস্তায় কোন পশু-পাখিকে ইস্তিঞ্জা করতে দেখিনি, একমাত্র হযরত বিশর হাফী রহ.-এর সম্মানার্থে। কিন্তু আজকে যখন এই পশু ইস্তিঞ্জা করলো, আমি নিশ্চিত হয়ে গেলাম নিশ্চয়ই হযরত বিশর হাফী রহ. তিনি জমিনের উপর নেই এবং সত্যিই সংবাদ নিয়ে জানা গেল তিনি নেই। (সুবহানাল্লাহ)

এখন চিন্তা করার বিষয়, যারা এ কিতাবের উপর ঈমান এনেছেন এবং তাকওয়া অর্জন করেছেন উনাদের কতটুকু মর্যাদা মহান আল্লাহ পাক দিয়েছেন। কতটুকু উনাদের ফজিলত দিয়েছেন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। অত্যন্ত চিন্তুা-ফিকিরের বিষয়। একখানি আয়াত শরীফের সম্মান করার কারণে যদি এত সম্মান দেয়া হয়, এত মর্যাদা দেয়া হয়, তাহলে পূর্ণ কোরানের সম্মান করলে আল্লাহ পাক সেই বান্দাকে কী ফজিলত দিবেন- ভেবে দেখেছেন কি?(তথ্যসূত্র: তাজকিরাতুল আউলিয়া)