রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ২৭ কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ,২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিএনপি এখনো শক্ত অবস্থানেই আছে : নাঈমুল ইসলাম খান

AmaderIslam.COM
অক্টোবর ২৪, ২০১৮
news-image

উল্লাস মূর্তজা : ‘আমি মনে করি বিএনপি এখনো শক্ত অবস্থানেই আছে। বাংলাদেশে রাজনীতির স্রষ্টা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সেই দল প্রথম নির্বাচনে মাত্র ৪৬ টি আসন পেয়েছিল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৪৬ টি আসন নিয়েও রাজনীতিতে ছিল। যে দল ২৪ বছরের পাকিস্থান শাসনামলেও ২১ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করেছে এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেলে ছিলেন সাড়ে ১২ বছর। তারপর রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া দল পরে মাত্র সাড়ে ৩ বছর ক্ষমতায় থাকলো, তারপর ২১ বছর লেগেছে ক্ষমতায় আসতে।

সুতরাং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে তুলনা করলে সেখানে বিএনপি আর কত বছরই বা ক্ষমতার বাইরে? আমরা যতই মনে করি বিএনপি বেশ দুর্বল হয়ে পরেছে, আসলে তা নয়। বিএনপি এখন পর্যন্ত ঐ মাত্রায় দুর্বলতা দেখিয়েছে বলে আমি মনে করি না।’

রবিবার ‘চ্যানেল ২৪’ এর ‘মুক্তবাক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আমাদের ইসলাম ডটকম-এর সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান।

‘ইভিএম’ পদ্ধতি সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জানতে চাই ‘ইভিএম’-এ কী ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে? যা অ্যবইউজ করা যাবে না এবং যে কেউ যখন তখন চ্যালেঞ্জ করলে তার রেকর্ড চেক করতে পারবেন। বাংলাদেশে যেকোনো পরীক্ষার ফলাফল আপনি চাইলেই যাচাই বাছাই করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ‘ইভিএম’ এর ফলাফল পরীক্ষার জন্য একটা ব্যবস্থা থাকা উচিৎ। এই নির্বাচনে ‘ইভিএম’ এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অনেক দেরিতে কিন্তু আলোচনা বহু বছর আগের। আমি মনে করি বহু বছরের ধারণাটা আর একটু এগিয়ে রাখা যেতো, এটা কিন্তু একটা বড় ধরনের ত্রুটি। কেউ যদি এটাকে সন্দেহ করেন সেটা মোটেও অমূলক নয়। এই সন্দেহ দূর করার জন্য ঐ জায়গাগুলো আরও আগেই পরিষ্কার করা উচিৎ সরকারের।’

গত সমাবেশে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে নানারকম পরিস্থিতি তৈরি হবে কিন্তু নির্বাচনটা হবে। এরশাদ সাহেব এমনভাবে কথা বলেছেন যে, তার বিএনপির সাথে ঐক্য হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বিএনপির সাথে তিনি যাবেন সে কথা না বললেও তিনি আরও পরে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আসছেন। তার গত কয়েক মাসের কার্যক্রমে মনে হয়েছে তিনি যেকোনো দলে যোগ দিতে পারেন। আওয়ামী লীগের উপর চাপেরও একটা কৌশল হতে পারে, আবার বিএনপির সাথে যোগ দেবার রাস্তা তৈরির জন্যও হতে পারে। আসলে যে কী হবে তা সময়ই বলবে।’

বিএনপি তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে ফিরে আসবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ‘তত্তাবধায়ক সরকারের দাবি বিএনপির বহু পুরোনো দাবি। সহজেই এ দাবি থেকে তারা সরে আসতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় দাবি মানার জন্য বা মানানোর জন্য করা হয় না। রাজনীতিবিদরা এটা করে থাকেন। সরকারিদল বিরোধীদলের জন্য কাজ করতে পারে না আর বিরোধীদলের দাবিতো থাকবেই। এটা একটা রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। বিএনপি নির্বাচনে অবশ্যই যাবে, তার মানে এই নয় যে, তত্তাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে বিএনপি সরে আসবে। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে তাদের দাবি আদায়ের জন্য। পরে তারা যাতে জনগণকে বোঝাতে পারেন যে নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য আমাদের এই দাবিগুলো ছিলো। সরকার মানে নাই, সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য জোর পূর্বক নির্বাচন করেছে ইত্যাদি।’ তেমনই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও অনেক কথা বলবে বিএনপিকে বিভ্রান্তিতে ফেলার জন্য। এটা রাজনীতির কৌশল। এটাতে দোষের কিছু নেই।’