রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ২৭ কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ,২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

শয়তানদের দরবারে কথোপকথন

AmaderIslam.COM
অক্টোবর ২৫, ২০১৮
news-image

সাইদুর রহমান : প্রত্যেক সম্প্রদায়ই কাজকর্মের হিসাব নিকাশ করে। শয়তানের বেলায়ও ব্যতিক্রম নয়। শয়তানও দরবার বসিয়ে কাজকর্মের হিসাব নিকাশ করে থাকে। দরবারের কথোপকথন বিষয়ে একটি হাদীসে আছে, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন, শয়তান মাঝে মধ্যে সমুদ্রের পানির উপর দরবার বসায়। সভার আয়োজন করে। তখন তার সকল সহযোগীরা -যারা তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা ) তারা এখানে এসে হাজির হয়। এবং তাদের সকলের কাছ থেকে স্ব-স্ব কার্যবিবরণী তলব করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে। তখন সকল শিষ্যই নিজ নিজ কর্মের রিপোর্ট পেশ করে। সিংহাসনে উপবিষ্ট ইবলীস নীরবে তাদের বিবরণ শোনে। তখন এক শিষ্য এসে বলে, এক ব্যক্তি নামায পড়ার জন্যে মসজিদে যাচ্ছিল, আমি পথিমধ্যে তাকে এমন এক কাজে ফাঁসিয়ে দিয়েছি, যে কারণে সে আর নামায পড়তে পারেনি। তার বক্তব্য শুনে ইবলীস খুব খুশী হয় এবং বলে তুমি খুব সুন্দর কাজ করেছ।

তবে সে খুব বেশি খুশী হয় না। তারপর অন্য একজন এসে আরয করে, এক ব্যক্তি ইবাদতের উদ্দেশ্যে কোথাও যাচ্ছিল, আমি তাকে ইবাদত থেকে বিরত রেখেছি।

একথা শুনে ইবলীস আনন্দিত হয়। অনন্তর এক অনুচর এসে বলতে শুরু করে, এক দম্পত্তি বড় ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতার সাথে সংসার করছিল, তাদের দিনকাল গভীর সুখ ও আনন্দেই কাটছিল। একদিন আমি হাজির হলাম তাদের সুখময় জীবন সংসারে। আর এমন একটি কান্ড ঘটালাম, যার পরিণামে পরস্পর ঝগড়া বেঁধে গেল। এবং তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল। তার এই বক্তব্য শোনার পর ইবলীস নিজের সিংহাসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে যায়। তার সাথে আলিঙ্গন করে। তাকে জড়িয়ে ধরে এবং বলতে থাকেঃ তুমিই সত্যিকার অর্থে আমার প্রতিনিধি। তুমি যা করেছ তা আর কেউ করতে পারেনি।

মুসলিম শরীফ, কিতাবুল সিফাতিল মুনাফিকীন, বাবু তাহরীশিশ শায়তান, হাদীস নং ৩৮১৩ হাদিসটি থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরে বিবাদ-বিসস্বাদ আল্লাহ ও রাসূল সা.-এর কাছে কতটুকু নিন্দিত ও ঘৃণিত, পক্ষান্তরে শয়তানের দৃষ্টিতে কতখানি নন্দিত ও প্রিয়। এ কারণে কুরআন ও হাদীসে আল্লাহ ও রাসূল সা. স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। যদি মানবজাতি সে দায়িত্ব পালনে সক্রিয় হয়, অনুসারী যদি হয় সে আদর্শেও, তাহলে ইহকালও সফলতায় ভরে উঠবে আর পরকালীন সফলতা তো আছেই।