শনিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ২৬ কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ,৩০ সফর, ১৪৪০ হিজরী

মহানবির কটূক্তিতে ফাঁসির আদেশ থেকে মুক্তি!

AmaderIslam.COM
অক্টোবর ৩১, ২০১৮
news-image

বিশ্বজিৎ দত্ত : ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থেকে পাকিস্তানের সুপ্রীম কোর্ট অভিযুক্ত খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বি আসিয়া বিবিকে বেকসুর খালাস ও তার দ্রুত মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে।

আজ পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি মিয়ান সাকিব নিসারের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের আপীল ব্যাঞ্চ এই মুক্তির আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের শেখপুরা জেলার একটি গ্রামের দরিদ্র অধিবাসি আসিয়ান বিবি ইসলাম ধর্মের নবী ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ সাঃ কে নিয়ে কটুক্তি করেন। এই অপরাধে পাকিস্তানের নিন্ম আদালত তাকে মৃত্যু দন্ডের আদেশ দেয়। পরে আসিয়া বিবি এ নিয়ে উচ্চ আদালতে আপীল করেন। পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার দায়ে দোষি ব্যাক্তির মৃত্যুদন্ড দেবার বিধান রয়েছে। পাকিস্তানে ব্লাসফেমি আইনে এটাই প্রথম কোন মহিলার মৃত্যুদন্ডাদেশ।

আসিয়া বিবির রায়ে প্রধান বিচারপতি নিসার বলেন, ধর্ম অবমাননার রায়ে বিচারকদের অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে, যে ব্যাক্তি ধর্ম অবমাননা করেছেন তিনি তা সচেতনভাবে করেছেন কিনা। যদি সচেতনভাবে এটি না করা হয়ে থাকে তবে তা শাস্তিযোগ্য নয়। নিম্ন আদালতের বিচারক আসিয়া বিবির এই বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়েই মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছিলেন। ৫৬ পাতার রায়ে তিনি এ বিষয়টি ব্যাখা করে বলেন, আমরা একমত হয়েছি অসচেনভাবে দেয়া বক্তব্যের কারণে আসিয়া বিবিকে শাস্তি দেয়া হয়েছিল।

আসিয়া বিবির সম্পর্কে পাকিস্তানের পত্রিকা ডনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে ফসল তোলার মৌসুমে আসিয়া বিবি অন্যান শ্রমিকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করছিলেন। এসময় তার তৃষ্ণা পেলে তিনি মাঠের পাশেই রাখা একটি পাত্র থেকে জল পান করতে যান। কিন্তু তাকে বলা হয় তুমি খ্রীস্টান তাই তোমাকে আলাদা গ্লাসে জলপান করতে হবে।

কারণ, মুসলিমরা যে পাত্রে জল খায় সে পাত্রে তুমি জল খেতে পারবে না। এ নিয়ে আসিয়া বিবি তর্কে জড়ান। এক পর্যায়ে তিনি বলে বসেন, আমার নবী যিশুখ্রীস্ট মানবতার মুক্তির জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত দিয়েছেন। আর তোমাদের নবী হযরত মোহম্মদ মানবতার জন্য কী দিয়েছেন। এ বক্তব্যের পর আসিয়া বিবিকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা মারধর করেন।

এমনকি তার পরিবারের লোকজনদের মারধর করে গ্রাম ছাড়া করে। থানায় মামলা হলে পুলিশ ব্লাসফেমি আইনে আসিয়া বিবিকে গ্রেফতার করে। পাকিস্তানের এই গ্রামটিতে আসিয়া বিবিই হলো একমাত্র খ্রীস্টান পরিবার।