শনিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ২৬ কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

‘মেজর জিয়া কওমি সনদের স্বীকৃতি বাতিল করেছিল’

AmaderIslam.COM
নভেম্বর ৬, ২০১৮
news-image

আমাদের ইসলাম : কওমি মাদ্রাসার সদনের স্বীকৃতির জন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামতে হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে নেয়া এক সিদ্ধান্তের কারণে। কারণ, ১৯৭৭ সালে তার সেনা শাসনামলেই কওমি সনদের স্বীকৃতি বাতিল করা হয়।

কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্সের সমমান দেয়ায় রবিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিল করে কওমি শিক্ষাবোর্ড ‘আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কাওমিয়া’। এতে প্রধান অতিথি হয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উপমহাদেশে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা শুরুর ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীরা এই মাদ্রাসা শুরু করেছিলেন, তাই আমরা তাদেরকে সব সময় শ্রদ্ধা করি।’

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসে সপরিবারে হত্যার দুই বছর পর কওমি সনদের স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে (জিয়াউর রহমান) এই সনদের স্বীকৃতি বাতিল করে দেন।’

কওমি সনদের স্বীকৃতির আইন গত ১৯ অক্টোবর পাস হয় জাতীয় সংসদে। যদিও এই ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী দেন ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল। সেদিন গণভবনে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা শফিও। গত ১৩ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সংসদে আইন পাস করে দিয়েছেন যাতে করে অন্য কেউ ক্ষমতায় এসে অতীতের মতো এই স্বীকৃতি বাতিল করে দিতে না পারে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শোকরানা মাহফিলে উপস্থিত কওমি আলেম মুফতি রুহুল আমিন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এক ধরনের স্বীকৃতি ছিল তখন। সেটার বিস্তারিত বলতে পারব না। তবে ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে এই স্বীকৃতি বাতিল করা হয়।’

এই দাবিটি কওমি আলেমদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। তাদের ১৪ বছরের শিক্ষা জীবনের কোনো স্বীকৃতি না থাকায় এতদিন তারা কোনো চাকরিতে যোগ দিতে পারতেন না।

১৯৯৯ সালে বিএনপি এবং আদর্শিক ‘শত্রু’ জামায়াতের সঙ্গে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক দল ইসলামী ঐক্যজোট জোটবদ্ধ হয় কওমি সনদের স্বীকৃতির আশ্বাসে। তবে সেই স্বীকৃতি দেয়া হয়নি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এই স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনা করেন আলেমদের সঙ্গে। কিন্তু তাদের মধ্যে বিরোধের জেরে ভেস্তে যায় এই উদ্যোগ। তবে আট বছর পর প্রধানমন্ত্রীর সেই উদ্যোগ সফল হয়। আর এর পরই শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়ার আলোচনা হয়।