শনিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ২৬ কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ,১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

ছোট বড় সকল মুসিবতে পড়ুন ‘ইন্না লিল্লাহ…’

AmaderIslam.COM
নভেম্বর ৮, ২০১৮
news-image

আল আমিন : একবার রাসুল (সা.)-এর জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলে তিনি ‘ইন্না লিল্লাহি’ পড়লেন। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, এটাও মুসিবত? রাসুল (সা.) বললেন, মুমিনের উপর যে অপছন্দনীয় কাজই পতিত হয় সেটাই মুসিবত। (তাবরানি আবু উমামার বর্ণনায়)

হজরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের রহ. বলেন, ‘ইন্না লিল্লাহ’ পড়ার নির্দেশনা শুধু এই উম্মতকেই দেয়া হয়েছে। এই নেয়ামত থেকে পূর্বযুগের নবী ও উম্মতগণ বঞ্চিত ছিলেন। (ইবনে কাসির, ৩/১০)

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) রাসুল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন- যে ব্যক্তি মুসিবতের সময় ‘ইন্না লিল্লাহি’ পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার মুসিবত দূর করে দিবেন। তাকে পরকালে কল্যাণ দেবেন এবং তার হারানো/নষ্ট হওয়া বস্তুর বদলে উত্তম বস্তু দান করবেন। (দুররে মনসুর)

হজরত আলী (রা.) রাসুল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, যে মুসলমানের উপর কোনো বিপদাপদ আসে, যদিও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হবার পর তার মনে পড়ে এবং সে ‘ইন্না লিল্লাহ’ পড়ে নেয়; তখন বিপদে ধৈর্যের সময় যে পুরস্কার পেয়েছিল, এখনও সেই পুরস্কার পাবে। (মুসনাদে আহমদ)

হজরত আবু সিনান (রা.) বলেন, আমি আমার এক শিশু সন্তানকে দাফন করলাম। কবর থেকে উঠার সময় আবু তালহা খওলানি আমার হাত ধরে বের করলেন এবং বললেন, শোনো! আমি তোমাকে সুসংবাদ শোনাচ্ছি। রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা মালাকুল মওতকে জিগ্যেস করেন, তুমি আমার বান্দার চোখের শীতলতা আর তার কলিজার টুকরা কেড়ে নিয়েছ। বলো, সে কী বলেছে? মালাকুল মওত বলেন, প্রভু! সে তোমার প্রশংসা করেছে আর “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পড়েছে।

তখন আল্লাহ তায়ালা বলেন, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করো এবং ওই ঘরের নাম রাখো বায়তুল হামদ। (ইবনে মাজাহ, তাফসিরে ইবনে কাসির, ১/২২৮)