বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ৫ পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ,১০ রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

‘নজরুলের পর এ ধরনের সঙ্গীত বাংলাদেশে বিরল’

AmaderIslam.COM
নভেম্বর ২৩, ২০১৮
news-image

আমিন মুনশি : রবিউল আউয়াল মানেই সীরাতের আলোচনা। প্রিয় নবীর সুমহান জীবনের প্রচার-প্রচারণা। উম্মতের জন্য নবীজির যে ভালোবাসা, দরদ, টান ছিল তার বিনিময় দৃশ্যর অবতারনা।

এ মাসকে বলা হয় সীরাতুন্নবীর মাস। মুসলমানদের মানসে এ মাসে উথলে উঠে নবীপ্রেম, নবীর জন্য হৃদয়ের সুপ্ত আবেগ। মুখে মুখে জপ উঠে দরুদ শরিফের পবিত্র জপমালা।

লেখক, কবি-সাহিত্যিকদের কলমে এ সময় প্রকাশ পায় রাসূল প্রশস্তি। কাব্য, কাহিনী, ইসলামি গানের মনজুড়ানো হরেক রকম আয়োজন। এ বছর তেমনই একটি রাসূলপ্রেমের গান বা সঙ্গীত ইউটিউবে সাড়া ফেলেছে। জাগ্রত কবি হিসেবে পরিচিত আল্লামা মুহিব খানের ‘তুমি আছো দূর আরবে’ অতি অল্প সময়ে স্যোশ্যাল মিডিয়াতেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উপমহাদেশীয় সুর ব্যঞ্জনায় উচ্চাঙ্গ ধাঁচের এই ক্ল্যাসিক্যাল সঙ্গীতটি ইতোমধ্যেই প্রায় সাড়ে চল্লিশ হাজারবার শেয়ার হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পর এ ধরনের সঙ্গীত বাংলাদেশে আর হয়নি।

এ প্রসঙ্গে সঙ্গীতটির গীতিকার ও সুরকার কবি মুহিব খান বলেন, ‘আমাদের দেশে এ যাবত এই ধাঁচের ও মানের ইসলামি সঙ্গীতের প্রচলন কম ছিলো। আমিই প্রথম চেষ্টা করেছি নবীজিকে নিয়ে ভিন্ন কিছু করার। সঙ্গীতটিতে আমি একাই কোরাস দিয়েছি, কাওয়ালি ও বিভিন্ন রাগের সুক্ষ্ম ব্যবহার করেছি। আশা করি, শ্রোতাদের কাছে এটি সমাদৃত হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে এই শিল্পীর নবীজীবনী ভিত্তিক ‘বালাগাল উলা বিকামালিহী’ ‘ত্বলাআল বাদরু আলাইনা’ ও ‘দাস্তানে মুহাম্মদ’ শিরোনামের সঙ্গীতগুলো শ্রোতামহলে বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

সঙ্গীতটির লিরিক…

তুমি আছো দূর আরবে, আমি আছি এ বাংলায়
আমার এ দেহ এখানে, মনটা থাকে মদীনায়-

ইয়া রাসূলাল্লাহ
ইয়া নাবীয়াল্লাহ
ইয়া হাবীবাল্লাহ
সালাওয়াতুল্লাহি আলাইক।।

তোমারে মনে পড়ে যখনি
যিয়ারাতের প্রহর গুনি
রাওজা পাকের স্বপন বুনি
কবে হবে শীতল এ মন-জ্বালা।।

সারা জীবন থাকি আশায়
তোমারি মিলন পিয়াসায়- (২)

তোমার পথে, যিয়ারাতে
নাই কড়ি নাই, আমার হাতে
নাই সামানা, আমার সাথে
আমি ফকির, কিবা তাতে
বেঁচে থাকি, সেই আশাতে
বোঝাবো হায়, কোন ভাষাতে
শুধু তোমারি, মুহাব্বাতে
অশ্রু-বারি আঁখিপাতে
কাঁদি প্রভাতে, কাঁদি রাতে
কবে যাবো মাদীনাতে- (২)

আমি অপারগ উম্মাত তোমারি
দূরে থেকে তোমার অনুসারী
দেবো কী করে এ পথ পাড়ি
জপি দরূদ-সালামের জপমালা।।

এই পৃথিবী বলে আমায়
এভাবে কি সেথা যাওয়া যায়- (২)

পাহাড় বলে, পাথর ঠ্যালো
বাতাস বলে, পাখা মেলো
সাগর বলে সাঁতার কাটো
জমিন বলে পায়ে হাঁটো।
আমি বলি, এ হৃদয়ে
আছি নবীজীর প্রেম লয়ে
নবীর কাছে, যাই বা না যাই
আমি তাঁরে স্বপনে পাই
আমি থাকি তাঁরি কাছে
আমার বুকে নাবী আছে- (২)

তুমি আখেরাতে হয়ো সাথী
তুমি আঁধার রাতে হয়ো বাতি
তুমি আমায় ডেকো ইয়া উম্মাতী
মুখে দিয়ো আবে কাউসারের পেয়ালা।।