বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ইং ৩ মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ,৯ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

যেসব কারণে মাওলানা সাদ বিতর্কিত

AmaderIslam.COM
ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮
news-image

নূর নাহার আলো : সম্প্রতি দাওয়াত ও তাবলিগে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ মাওলানা সাদ কান্ধলভির কিছু বিতর্কিত বক্তব্য। তাঁর সেসব বক্তব্য থেকে কয়েকটি তুলে ধরা হলোঃ

মসজিদের বাইরে হেদায়েত নেই : ‘মসজিদে ঈমানের আসর কায়েম করা ফরজ। মসজিদের বাইরে অন্য কোথাও হেদায়েত পাওয়া যাবে না।’ (সূত্র : দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া : ১৫)

মুসা (আ.)-এর ওপর অপবাদ : ‘মুসা আলাইহিস সালাম নিজের জাতির মধ্যে দাওয়াতের কাজ ছেড়ে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে কথা বলার উদ্দেশ্যে নির্জনবাসে চলে গিয়েছিলেন। যার ফলে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার বনি ইসরাইল গোমরাহ হয়ে যায় (মুরতাদ হয়ে যায়)।’ (সূত্র : দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া : ১৮)

তাবলিগের ৬ নম্বরই প্রকৃত ইসলাম : ‘যে ব্যক্তি এই ৬ নম্বরকে পূর্ণ দ্বীন মনে করে না, সে হলো ওই ব্যবসায়ীর মতো, যে নিজেই নিজের দধিকে টক বলে বেড়ায়। এমন ব্যবসায়ী কখনো সফল হতে পারে না।’ (সূত্র : দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া : ১৭)

হেদায়েত আল্লাহর হাতে নেই : ‘হেদায়েত যদি আল্লাহর হাতেই থেকে থাকে, তাহলে তিনি কেন নবীদের প্রেরণ করেছেন!’ তাঁর এই বক্তব্য কোরআনের সুরা কাসাসের ৫৬ নম্বর আয়াতসহ বহু আয়াতবিরোধী।

ক্যামেরা মোবাইল পকেটে থাকলে নামাজ হবে না : ‘আমার মতে ক্যামেরাওয়ালা মোবাইল পকেটে রেখে নামাজ পড়লে নামাজ হবে না। ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল থেকে দেখে দেখে কোরআন শোনা ও পড়া হারাম। এতে কোরআনের অবমাননা হয়। এর কারণে কোনো সওয়াব হবে না। যেসব আলেম তা বৈধ হওয়ার ফতোয়া দেন, তাঁরা উলামায়ে সু।’ (সূত্র : দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া : ১৬)

না বুঝে কোরআন পড়লে লাভ নেই : ‘কোরআন বুঝে পড়া প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব। না বুঝে কোরআন পড়ার কারণে কোনো লাভ হবে না। এমন লোকের ওয়াজিব তরকের গুনাহ হবে।’ (সূত্র : দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া : ১৭) -তাঁর এই বক্তব্য জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মওদুদীর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি।

কোরআন পড়িয়ে অর্থ নেওয়া হারাম : ‘বিনিময় নিয়ে কোরআনে কারিম পড়া নোংরা নারীর বিনিময়ের মতো। নোংরা নারী তার আগে জান্নাতে যাবে।’ (সূত্র : দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া : ১৬)

নিজামুদ্দিন থেকে বিচ্ছিন্ন হলে ধর্মত্যাগের গুনাহ হবে : ‘সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ঈমান আনয়নের পর মদিনা থেকে ফিরে নিজের এলাকায় যাওয়াকে ইরতিদাদ তথা ধর্মত্যাগ মনে করতেন। কাজেই নিজামুদ্দিন মারকাজ (তাবলিগের মূল কেন্দ্র) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াকে সাধারণ বিষয় মনে কোরো না।’ (সূত্র : অব্যাহত বিভ্রান্তিকর বয়ান, পৃষ্ঠা ২৫)

আসহাবে কাহফের সঙ্গী কুকুর ছিল না : ‘আসহাবে কাহফের সঙ্গী জন্তুটি কুকুর ছিল না; বাঘ ছিল।’ (সূত্র : অব্যাহত বিভ্রান্তিকর বয়ান, পৃষ্ঠা ৪৯) -তাঁর এ বক্তব্য সুরা কাহফের ১৮নম্বর আয়াতবিরোধী।

নিজামুদ্দিন পৃথিবীর অন্যতম পবিত্র স্থান : ‘এই স্থানটির (নিজামুদ্দিন) সম্মান কোরো। সমগ্র পৃথিবীর অবস্থা হলো এমন যে মক্কা-মদিনার পরে যদি এমন কোনো সম্মানিত জায়গা থাকে, যে জায়গাকে আদর্শ মনে করতে হয়, যে জায়গার অনুসরণ করতে হয়, যে জায়গাকে মহান মনে করতে হয়, তাহলে সেটি হলো এই নিজামুদ্দিন বাংলাওয়ালি মসজিদ।’

তাবলিগের মাশওয়ারা নামাজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ : ‘মুমিন যেভাবে গুরুত্বের সঙ্গে নামাজ আদায় করে, গুরুত্বের সঙ্গে মাশওয়ারায় (পরামর্শ) উপস্থিত থাকা এর চেয়েও অধিক জরুরি।’ (সূত্র : অব্যাহত বিভ্রান্তিকর বয়ান, পৃষ্ঠা : ৯)

তাবলিগের বাইরের কিতাব পড়া যাবে না : ‘আমাদের কাজের (তাবলিগি) সঙ্গে লেগে থাকতে হবে এবং মাওলানা ইলিয়াছ ও মাওলানা ইউসুফ সাহেবের কিতাব পড়বে, অন্য কোনো কিতাব পড়বে না।’

আল্লাহর জিকির করে কিছুই অর্জন হয় না : ‘সকাল সকাল কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করা এবং নফল নামাজ পড়ার একটা অর্থ বুঝে আসে। কিন্তু আল্লাহ আল্লাহ জিকির করে কী অর্জন হয়? কিছুই হয় না।’

ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকা : ‘ভোটের সময় চিহ্ন হিসাবে (আঙুলে) যে রং লাগানো হয়, তার কারণে নামাজ হয় না। তাই ভোট না দেয়া উচিত।’