বুধবার, ২২ মে, ২০১৯ ইং ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,১৬ রমযান, ১৪৪০ হিজরী

‘একজন বাবুনগরিই ছিলেন হেফাজতের শেষ ভরসা’

AmaderIslam.COM
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯
news-image

রশীদ জামীল : একজন বাবুনগরিই ছিলেন হেফাজতের শেষ ভরসা
আপস করতে রাজি হননি, সেটা তাঁর অপরাধ।
সুতরাং, তাঁকে তিলে তিলে শেষ করে দাও।
সরকার+হেফাজত=জিন্দাবাদ।

গীতারানী দাশের কথা মনে আছে? ঐ যে! হাসপাতালের বেডে শুয়ে রাজনৈতিক অ্যাসিডদগ্ধ মহিলাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চোখে চোখ রেখে মুখের উপর বলেছিলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনারা আমাদের তৈরি করেননি, আমরাই আপনাদের তৈরি করেছি’।

ইসলামী, আধা ইসলামী, বেইসলামী… সকল পর্যায়ের নেতা-উপনেতা-পাতিনেতাগণ গীতারানীর সেই থাপ্পড়টির কথা মনে রাখলে ভালো করতেন। নেতারা কর্মী জন্ম দেন না। কর্মীরাই নেতা তৈরি করে।

হেফাজতের ব্যানারে যারা বাইচান্স নেতা হয়ে গিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই নিজ নিজ আওক্বাত ভুলে গেছেন। তাঁরা ভেবেছেন সময় সব সময় সমানই থাকে। তাঁরা মনে করেছেন ছেলেরা সেই আগের মতোই আছে, বিশ্বাসের কাঁচামাল পর্যায়ে। গণ্ডির বাইরে বের হন না বলে কেউ তাদের বলে দেয়নি__ সেই দিন আর নাই, দিন বদলাইছে।


তাঁরা যখন রাজধানীতে বসে, বন্দরনগরীতে বসে ঈমান রক্ষার স্লোগান দিয়েছিলেন, দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ, বিশেষত কওমি ছেলেরা রাজশাহী থেকে, খুলনা থেকে, রংপুর বরিশাল সিলেট থেকে জিন্দাবাদ বলেছে। তাঁরা লংমার্চের ডাক দিয়েছেন, মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে ছুটে গেছে। তাঁরা ঢাকা অবরোধের ডাক দিয়েছেন, ছেলেরা আবারো ছুটেগেছে।

তাঁরা বলেছেন শাপলায় গিয়ে জড়ো হতে।
মানুষ জড়ো হয়েছে।
তাঁরা বলেছেন, সারারাত ওখানে থাকতে হবে।
ছেলেরা থাকতে রাজি হয়েছে।

মধ্যরাতের ট্র্যাজেডির সময় মৃত্যুর মুখে ফেলে রেখে নেতারা যখন সটকে পড়েছেন, ছেলেরা তখনও সরে যায়নি। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে কিন্তু নেতাদের মতো বেঈমানি করেনি।

তখন হেফাজতের গলাবাজ নেতাদের কেউই মঞ্চে ছিলেন না, একজন ছাড়া। একজনমাত্র মানুষই শেষ পর্যন্ত ছিলেন। গুলি শুরু হওয়ার এক সেকেন্ড আগেও মাঠ ছাড়েননি। তিনি ছিলেন জুনাইদ বাবুনগরি।

রক্তের দাগ শোকানোর আগেই সবকিছু ভুলে গিয়ে হেফাজত সরকারের সাথে আঁতাত করে ফেলল। কাজটি তাঁরা করতে পারলেন, কারণ, তাদের ভাই-ভাতিজা-ছেলেদের কেউ সে রাতে মারা যায়নি। সুতরাং স্বজন হারানোর ব্যথা তাঁরা কী বুঝবেন।

শুধু একজন বুঝলেন। আপসকামীতার বিরুদ্ধে প্রথম প্রথম নীরব প্রতিবাদ জানালেন। শিকার হলেন অভ্যন্তরীণ ম্যান্টাল টর্চারের। তবুও থামলেন না তিনি। একপর্যায়ে মুখ খুললেন। ভাবলেন একজন কারো সত্যের সাথে থাকা দরকার। সারাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ের আওয়াজ ধ্বনিত হতে লাগল তাঁর জবান দিয়ে। তিনি জুনাইদ বাবুনগরি।

ব্যাপারটি সরকার কিংবা হেফাজত, কারোই ভালো লাগার কথা ছিল না। কিন্তু ধর্মপ্রাণ মানুষের সেন্টিমেন্টের কথা ভেবে সরাসরি কিছু করাও যাচ্ছিল না। অতএব রাস্তা একটাই খোলা। তিলে তিলে মেরে ফেলা। তাই করা হচ্ছে। আর এই ব্যাপারে হেফাজতের মূল নেতৃত্বও যে একমত, মানুষটি হসপিটালে ভর্তি হওয়ার পর ৭২ ঘন্টার মধ্যে একজন কারো গিয়ে খোঁজ না নেওয়াই তার প্রমাণ।

তিনদিন পর গতকাল হেফাজতের মেরুদণ্ডহীন সাংগঠনিক সম্পাদন অন্য আরেকজনের লেখা থেকে কপি করে অনলাইনে একটা বিবৃতি দিয়ে নিজের অথর্বতার প্রমাণ দিতে চেষ্টা করেছেন। আবার বলবার চেষ্টা করেছেন কেউ কেউ নাকি অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্যদিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। দায়িত্বিহীন কথাবার্তারও একটা সীমা থাকা দরকার।

চতুর্থ দিনে আমিরে হেফাজতের পক্ষ থেকে একটা অনলাইন বিবৃতি এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, আল্লামা শফী ডিআইজির সাথে ফোনে কথা বলেছেন, বাবুবগরির পাসপোর্টের ব্যাপারে। শায়খের তো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েই ফোন করতে পারার কথা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে তাঁকে বাবার মতো শ্রদ্ধা করেন। আমরা এখনো মনেকরি শায়খ মন থেকে চাইলে বাবুনগরির পাসপোর্ট ফেরত পাওয়া এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রশ্নহল শায়খকে ঘিরে রাখা চামচারা সেটা করতে দেবে কিনা।


ঢাকা চট্রগ্রাম থেকে রহমতের (!) ফেরেশতার মতো যারা আমাদের বয়োঃবৃদ্ধ শায়খ আল্লামা আহমদ শফীকে ঘিরে রেখেছেন, তাঁকে প্রকৃত অবস্থা থেকে দূরে রেখেছেন, তাদেরকে সতর্ক হয়ে যেতে অনুরোধ করি। তারা যদি ভাবেন ছেলেরা আগে যেমন বিশ্বাসের কাঁচামাল ছিল, এখনো তাই আছে, তাহলে ভুল করবেন। যে ভুলের মাশুল কঠিনভাবে দিতে হতে পারে।

পানিনেতাদের বলি। ভুলে যাবেন না আপনাদেরকে নেতা বানিয়েছে বাংলাদেশের কওমি ছেলেরাই। তারাই আপনাদের মাথায় তুলে সম্মান দিয়েছে। ভাববেন না মাথাগুলো আপনাদেকে জন্য স্থায়ী বন্দোবস্ত দিয়ে দিয়েছে। লাইনে থাকুন, ভালো থাকবেন।

সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে মনে করিয়ে দিতে চাই, মুসলমানরা আল্লাহর নবি হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে সম্মান করে, কিন্তু নূহনবির সন্তান হওয়ার কারণে কেনানকে কেউ এক পয়সারও দাম দেয় না। কেনানদের কপালে শুধু ঘৃণাই থাকে।