বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯ ইং ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,৯ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

আমরা ভুলে গেছি আমাদের শত্রু কারা

AmaderIslam.COM
এপ্রিল ১২, ২০১৯
news-image

ওমর আলী আশরাফ : আমি কথা বলছি চরমোনাইকে ঠুকে, চরমোনাইপ্রেমী ঠেকিয়ে বলছে হাফেজ্জি কিংবা আমিনীকে। জমিয়তের একূল নিন্দা ঝাড়ছে ওকূলের। এমনকি সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরবও ভেঙ্গে টুকরো হল। কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়িতে আমরা নিজেরাই বিপর্যস্ত। কী প্রয়োজন ছিল তার?

আমরা খুব সহজেই ভুলে গেছি হেফাজতের আবির্ভাব কোন প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, আমিনী সাহেবের ঐক্যজোট লড়ে গেছে কাদের রুখতে, জমিয়তের আদর্শ কী, চরমোনাইর লক্ষ্য কতদূর! আমরা ভুলে গেছি আমাদের শত্রু কে? আমরা ভুলে গেছি, আমাদের লড়াই কার সঙ্গে? বোকার মতো মাথা দুলিয়ে আমরা নিজেদের দাবি করছি জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান। সত্যিই কি আমরা জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান?

আল মুসলিমু কা জাসাদিন ওয়াহিদিন, আল মুসলিমু আখুল মুসলিম- কুরআন এবং হাদিসের অনন্তর আহ্বান আমরা পড়েছি মুখস্থ করেছি এবং ভুলে গেছি। আমরা পড়েছি “আল মুসলিমু মান সালিমাল মুসলিমুনা মিন লিসানিহি ওয়া ইয়াদিহি”—আমরা পড়েছি অতঃপর ভুলে গেছি এবং সাপের মতো জিহ্বা সঞ্চালন আর বানরের মতো হাত প্রসারণ করছি।

আমরা ভুলে গেছি নাস্তিকরা সারাক্ষণ ইসলামকে বিকৃত করে আল্লাহ ও তার রাসুলকে গালমন্দ করছে, ইহুদি খ্রিস্টানরা চারপাশ থেকে ইসলামি ভূখণ্ডগুলো নানান ছুতোয় গিলে খাচ্ছে। ‘আল কুফফারু মিল্লাতুন ওয়াহিদাহ’ —মিয়ানমার, সিরিয়া, কাশ্মীর, ইয়ামান, উইঘুরে খোদার ঈমানদার বান্দাদের রক্ত ঝরাচ্ছে কুফফারেরা। আমরা ভুলে গেছি আমাদের শত্রু কারা?

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়, আমাদের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি বারবার অতিক্রান্ত হয়েছে, আমরা সেগুলো পড়ি শুনি এবং আমাদের পূর্ব পুরুষদের দোষারোপ করি! আমরা বুঝতে পারছি না, এই আমরাও একই অন্যায়ে জড়িয়ে আছি! আমাদের পরবর্তীরা এ নিয়ে আমাদের গালমন্দ করবে। আমরা কি তাদের জন্য কল্যাণকর কিছু রেখে যাচ্ছি? রেখে যেতে পারছি? কতগুলো কাজ আমাদের পড়ে আছে, হিসেব আছে?

যে মেধাগুলো আজ উঠেপড়ে লেগেছে চরমোনাই দমনে, চরমোনাইর যে ছেলেগুলো কটু মন্তব্য ঠুকছে আকাবিরে আসলাফের নামে, দুদিকের এই যে বিশাল তরুণ সমাজ পরস্পরে কামড়াকামড়িতে লিপ্ত, যারা প্রত্যেকেই একেকটা বারুদ, জ্বলে উঠলেই ধ্বংস হয়ে যাবে বাতিলের স্তম্ভ, তারা নিজেদের সবটুকু বিসর্জন দিচ্ছে আপন ভাইকে আঘাত করে। ভাবতেই গাটা ঘিনঘিনিয়ে ওঠে।

আপনি শত্রু খুঁজে পাচ্ছেন না, আমার কাছে আসুন, নাস্তিকরা কী কী করে বেড়াচ্ছে, আপনাদের দেখাচ্ছি, দেখার পর সহ্য করে ধৈর্য ধরতে পারবেন না শিওর। এনজিও মিশনারিরা সেবার আড়ালে এদেশের হিন্দু মুসলমানদের নির্বিবাদে ধর্মান্তর করছে; পার্বত্য অঞ্চল ‘জুমল্যান্ড’ নাম দিয়ে আলাদা খ্রিস্টরাজ্য করে ‘পূর্ব তিমুরে’র মতো করে দেশটা বিচ্ছিন্ন ও বাঙালি মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে, আমার কাছে আসুন, আমি বিস্তারিত দেখাচ্ছি। ‘বাংলায় বাজে গির্জার বাঁশি’ উল্টেপাল্টে দেখুন, চুপ করে বসে থাকতে পারবেন না।

সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কত কাজ বাকি জানেন? কিশোরদের উপযোগী করে অণু পরিমাণ রচিত হয়েছে, তরুণদের জন্য বাংলা সাহিত্যে মননশীল কিছু আছে? আরও বলব? লেখা দীর্ঘ হবে। বিবেকবানের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট মনে করি। যদি বিবেকের দুয়ারটা একটু খোলে! মাআস সালামাহ। (ফেসবুক থেকে)