শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ইং ৩০ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ,৬ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

ধর্ষক-হায়েনাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের জিহাদ আবশ্যক

AmaderIslam.COM
এপ্রিল ১২, ২০১৯
news-image

মুফতি ফয়জুল্লাহ : নারী নির্যাতন থামছেই না। নৃশংসতা, পৈশাচিকতা বহুমাত্রায় বেড়ে গেছে। প্রতিদিন কোন না কোন ভাবে নারীরা নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্ষন, শ্লীলতাহানির শিকার হচ্ছে। এসব কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। যৌন হয়রানি, নির্যাতনের শিকার বহু নারী পরিবার, সমাজ ও লোকলজ্জার ভয়ে তা প্রকাশ করে না।

সাম্প্রতিককালের আলোচিত ঘটনার মধ্যে ফেনীর ঘটনা একটা নির্মম,নৃশংস ও ভয়াবহ ঘটনা। অভিযোগে জানা যায়, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার একটি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (কওমী মাদ্রাসার মুহতামিম নয়) তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। মেয়েটি এর প্রতিবাদ করে। অপরাধকে অপরাধ বলার অপরাধে অধ্যক্ষের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেই পৈশাচিক কায়দায় মেয়েটির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। অবশেষে সেই আগুনেই মেয়েটি মারা যায়।

এরকম নৃশংস ঘটনা আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি। নারীরা নির্যাতিত, নিষ্পেষিত হচ্ছে পদে পদে। ঘরে, বাইরে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কর্মস্থলে, পরিবহনে, রাস্তা-ঘাটে, হাট-বাজার, মার্কেটে। প্রতিদিন নৃশংস, নৈতিকতা বিবর্জিত বিভিন্ন ঘটনা আমাদের স্তব্ধ করে দিচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক দ্বারা শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির নৃশংস ঘটনা একটা ভয়াবহ অশনিসংকেত।

নারী ধর্ষন, নির্যাতন, নিপীড়ন, শ্লীলতাহানি ঘৃণ্য, নিকৃষ্ট অপরাধ। কর্মস্থল ও পেশা তার যাই হোক এই অপরাধ যেই করবে সে ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট অপরাধী। সে যেই হোক তাকে ও তাদেরকে নির্মুল করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই হায়েনাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের জিহাদ আবশ্যক।

এই হায়েনাদের রুখতে হবে। ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সেই আলিয়ার অধ্যক্ষসহ সব অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর হবে ইসলামী শরীয়া আইন। ইসলামী শরীয়া আইন কার্যকর করার মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা শুন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। (ফেসবুক থেকে)