সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,১১ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

‘ধামাচাপা দেওয়ার মানসিকতার কারণেই হুজুরদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে’

AmaderIslam.COM
এপ্রিল ১২, ২০১৯
news-image

ফারুক ফেরদৌস : হুজুরদের অপকর্মের খবর প্রচারে দেখা যায় অনেকের আপত্তি। একটু আগে একটা পোস্ট শেয়ার করলাম, সেখানে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। হুজুররা অপকর্ম করে বেড়াবে আর সেটা প্রচার করা যাবে না?

এই ধামাচাপা দেওয়ার মানসিকতার কারণেই হুজুরদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। মাদরাসায় সংঘটিত যৌন নির্যাতনগুলোর সত্তর শতাংশই জনসাধারণের জানার বাইরে থেকে যায়। সাধারণত যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক নামের কুলাঙ্গারটিকে বহিষ্কার করেই মাদরাসা কর্তৃপক্ষ মনে করে অনেক কিছু করা হয়েছে। ছাত্রদের আলেম সমাজের বদনাম হওয়ার ভয় দেখিয়ে বাইরে কারো কাছে ঘটনা বলতে নিষেধ করা হয়। ফলে বহিষ্কৃত শিক্ষক খুব সহজেই আরেক জায়গায় গিয়ে চাকরি পায় এবং একই অপরাধ বার বার করতে থাকে। এই ধামাচাপা দেওয়ার মানসিকতা, গোষ্ঠীগত বদনামের ভয়ে অপরাধীকে শাস্তি না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া এবং অপরাধ করে বেড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া এগুলো কি ইসলাম সমর্থন করে?

আপনি বলতে পারেন এরকম অপরাধী সমাজের অন্যান্য অংশেও আছে। পরিমলের মতো শিক্ষকের অপকর্মের খবর আমরা জানি। কোনো কোনো পুলিশ কনস্টেবলের অপরাধের খবরও পত্রিকায় ছাপা হয়। আপনার কথা তো মিথ্যা না। কিন্তু এই কারণে কি শুধু তাদের অপরাধের খবর প্রচার করতে হবে? হুজুর অপরাধ করলে ধামাচাপা দিয়ে তাকে আরও অপরাধ করার সুযোগ করে দিতে হবে?

আমাদের কর্তব্য মানুষকে জানানো যে, আজকাল হুজুরদের মধ্যেও এরকম চরিত্রহীন লুচ্চা মানুষজন ঘাপটি মেরে থাকে। কথিত সুন্নতি লেবাসের আড়ালে বাস করে অনেক নরপশু। সাধারণ মানুষ সরল মনে হুজুরদের বিশ্বাস করে আর এরা সেই সুযোগটাই কাজে লাগায়। মানুষের জানা উচিত ইমাম মুআজ্জিনের কাছে ছেলে মেয়েদের পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না। মাদরাসার শিক্ষকদের শুধু কথিত সুন্নতি লেবাস দেখে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। পারতপক্ষে শিশুকে আবাসিক হোস্টেলে রাখা যাবে না। একান্ত প্রয়োজন দেখা দিলে যাচাই বাছাই করে মাদরাসা নির্বাচন করতে হবে এবং নিয়মিত শিশুর খোঁজ খবর নিতে হবে।

কথিত হুজুর সমাজের বদনামের ভয়ে যদি অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন, নিকৃষ্ট অপরাধীকে পার পেয়ে যেতে দেন, আপনি কি একজন ভালো হুজুর? আপনি তো ভালো মুসলমানই না। (ফেসবুক থেকে)