শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৪ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,১৯ সফর, ১৪৪১ হিজরী

নারীদের সম্মান সুরক্ষায় আলেমদের বজ্রকণ্ঠ দেশবাসীকে আশার আলো দেখাতে পারতো

AmaderIslam.COM
এপ্রিল ১২, ২০১৯
news-image

তামীম রায়হান : গত কদিন ধরে আমি বেশ অবাক হয়ে আছি, ফেনীর সোনাগাজী এলাকার শিক্ষার্থী নুসরাতকে নিয়ে বাংলাদেশের আলেমসমাজ কিছু বলছেন না দেখে। অথচ এমন মর্মান্তিক ঘটনায় নারীদের সম্মান সুরক্ষায় তাঁদের বজ্রকণ্ঠ দেশবাসীকে আশার আলো দেখাতো, যে সুযোগটা তারা হারালেন।

নারীর সুরক্ষায় ইসলামের বার্তা হিসেবে আলেমসমাজ পর্দার কথা বলেন, কিন্তু শুধু পর্দা করেও তো লোলুপ পুরুষের ছোবল থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়- এমনকি যদি তিনি মাদরাসার অধ্যক্ষও হন, তবে এমন ঘটনায় কী করণীয় ছিল, কোন বিচ্যুতির দিকে আঙুল তোলা উচিত, তা নিয়ে আলেমসমাজের সময়োপযোগী বক্তব্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় ছিল। বরং আমি হতবাক হয়ে দেখেছি, আলেমসমাজের প্রতিনিধিত্বকারী কিছু মানুষ এই সময়ে ব্যস্ত রয়েছেন বক্তাদের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ, হেযবুত তওহিদ, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি নিয়ে। কিন্তু গণমানুষের সমাজ এবং সমাজের বিশেষতঃ কিশোর-তরুণদের মানবিক অবক্ষয় নিয়ে মানুষকে সর্তক করার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেন তাদের চোখের আড়ালে, আমি সেটা ভেবে বিস্ময় বোধ করি।

যৌন নিপীড়ক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করায় মাদরাসায় মেয়েটির গায়ে তাঁর বোরকা পরা সহপাঠীরা আগুন ধরিয়ে দিল- এই ব্যাপারটি আজকের বাংলাদেশে আমি কোনোভাবেই কল্পনা করতে পারছি না। দিনে দিনে নারী-পুরুষ ও কিশোর-বুড়ো নির্বিশেষে মানুষের মনে কেমন নৃশংসতা বেড়ে উঠছে, তা ভাবতে গেলে গা শিউরে ওঠে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সমাজে সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর-তরুণদের এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয় যে, এটিকে বিচ্ছিন্ন বলে কেউ অন্যদিকে কথা ঘোরাবেন।

একজন শিক্ষার্থীর উপর সংঘটিত এমন বর্বর ও অমানবিক ঘটনা আলিয়া মাদরাসাসহ সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য লজ্জার। দুর্নীতি, মাদক ও জঙ্গিবাদের মতো এই নৃশংসতাও সমাজের জন্য অভিশাপ। ফলে ভবনে আগুন লাগলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর যদি নড়েচড়ে বসে, তবে মানুষের শরীরে আগুন লাগলে আমরা কেন সজাগ হবো না!

নুসরাতকে বাঁচাতে সরকারপ্রধানের নির্দেশে সংশ্লিষ্টরা সব ধরণের চেষ্টা করেছেন, এটা প্রশংসনীয় ব্যাপার। কিন্তু এই ঘটনার পর সমাজে নৈতিকতা ও মানবিকতার প্রসারে সরকার যদি কার্যকর উদ্যোগ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে এর চেয়েও হৃদয়বিদারক ঘটনা যে ঘটবে না, তা কে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে! এই কদিন আগুনে পোড়া শরীরে অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে ছিল নুসরাত, এখন ওপারে মহান আল্লাহ যেন তাকে আপন রহমতের পরশ বুলিয়ে দেন, সেই দুআ করছি। (ফেসবুক থেকে)